ঢাকা  রবিবার, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়জুলাই শহীদদের স্মরণে জাতীয় সম্মেলন

জুলাই শহীদদের স্মরণে জাতীয় সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’।

শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত সম্মেলনের মঞ্চে লেখা ছিল, “গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা—৪ জুলাইয়ের এই দিনে হোক সবার অনুপ্রেরণা, যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।” অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমিটি। শুরুতেই জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরতেই এ জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

২০২৪ সালের মাঝামাঝি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ৩৬ দিনের সেই আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০-এর বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ দুই পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা থাকলেও, শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।-

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই জাতীয় সম্মেলন শুধু শহীদদের স্মরণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা, স্মৃতিচারণ এবং জাতীয় ঐক্যের আহ্বানের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular