ম্যাচটি না দেখলে বিশ্বাস করার মতো নয়—কারণ ৯০ মিনিট শেষ হবার পর অতিরিক্ত ৬ মিনিটের মধ্যে হয়েছে দুটি গোল।
প্রায় তিন দশকের অপেক্ষা পর অবশেষে বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে স্কটল্যান্ড। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে শেষবার ফুটবলের মহাআসরে খেলার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলো দলটি।
নিজের মাঠ হ্যামডেন পার্কে ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারিয়ে স্কটল্যান্ড নিশ্চিত করেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট।
ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। জিততেই হবে—এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামে স্কটল্যান্ড। মাত্র তিন মিনিটেই অ্যাক্রোব্যাটিক বাইসাইকেল কিকে দলকে লিড এনে দেন স্কট ম্যাকটমিনে। গোলটি দেখে প্রশংসা করে বলা হয়েছে ‘ওয়ান অফ ডি গ্রেট স্কটল্যান্ড গোল’।
তবে, ডেনমার্ক ম্যাচের ৫৬ মিনিটে সমতা ফেরে। কিন্তু ৬০ মিনিটে ম্যাকগিনকে বাধা দেয়ার জন্য ডেনমার্কের প্লেয়ার রাসমুস ক্রিস্টেনসেনকে লাল কার্ড দেখানো হলে ১০ জনের টিম নিয়ে বিপদে পড়ে যায় ডেনিশরা।
কর্নার থেকে লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড গোল করে আবারও এগিয়ে স্বাগতিকরা। শেষ দিকে ২-২ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
এক্সট্রা টাইমে কিয়েরান টিয়ার্নির গোল দলকে এনে দেয় স্বস্তি। যোগ করা সময়ে মিডফিল্ডার কেনি ম্যাকলিন মাঠের অর্ধেক এরিয়া থেকে অবিশ্বাস্য গোল করে জয় নিশ্চিত করেন—গোলটি স্কটিশ দর্শকদের জন্য অবিস্মরণীয়।
ম্যাচ শেষে স্কটল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন বলেন, ‘এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা রাত। আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি’।
১৯৯৮ সালে শেষবার স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে দেখা এক প্রবীণ সমর্থক বলেন, ‘২৮ বছর পর আবার সেই অনুভূতি। এটা পুরো প্রজন্মের জন্য আনন্দের।’
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার গল্প
১৯৯৮ সালের পর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে এবং পাঁচটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা হয়নি স্কটল্যান্ডের। স্টিভ ক্লার্ক দায়িত্ব নেয়ার পর দল প্রথম সাফল্য পায় ইউরো ২০২০-এ। এরপর ‘ইউরো ২০২৪’-এও জায়গা করে নেয় তারা। তবে, স্কটিশদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকেট!



