নিউজ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এ ঘটনাকে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য, এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
দ্য স্টেটসম্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিজেপি সরকার গঠন করল। দীর্ঘদিন বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা রাজ্যে বিজেপির এই উত্থানকে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আরও পাঁচ বিজেপি নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তারা হলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক।
শপথ অনুষ্ঠানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে মোদি বলেন, ‘২০২৬ সালের ৯ মে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।’
তিনি বলেন, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের এই শপথ অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন অধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি বহন করছে। একইসঙ্গে এটি আশা, মর্যাদা ও সুশাসনের প্রতীক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদি এদিন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকেও স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রতিষ্ঠা মুখার্জির স্বপ্ন ও রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোনো প্রচেষ্টার ঘাটতি রাখা হবে না বলেও জানান মোদি।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রবীণ বিজেপি কর্মী মাখনলাল সরকারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, মাখনলাল সরকার একসময় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে কাজ করেছেন এবং জম্মু-কাশ্মীর আন্দোলনের সময় তার সঙ্গে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে পঁচিশে বৈশাখে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকীর দিনে।
এটিকে সুন্দর এক কাকতালীয় ঘটনা’ উল্লেখ করে মোদি বলেন, অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের চিরন্তন বাণী বহুদিন ধরে জাতির চেতনাকে জাগ্রত করেছে এবং তার দর্শন এখনও ভারতের উন্নয়নের পথকে আলোকিত করছে।




