চট্টগ্রাম প্রতিবেদক: পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায়ও বাজিমাত করেছে রফিকুল ইসলাম রাব্বি। চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
২০১৮ সালে মুখ দিয়ে লিখে, অর্থাৎ মুখে কলম ধরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছিল রাব্বি। ওই পরীক্ষায় মুখ দিয়ে লিখে ৪ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট পেয়েছিল সে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধীরে ধীরে পায়ে লেখার অভ্যাস শুরু করে। এরপর থেকে সব শ্রেণিতে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে।
পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর তার বাবা-মাসহ পাড়া-প্রতিবেশী সবাই আনন্দিত। পুরো পাড়ায় খুশির বন্যা বইছে। তাদের পরিবারে এবার দ্বিগুণ আনন্দ। রাব্বির ছোট বোন রোকাইয়া আক্তার রোজাও ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে জিপিএ-৩.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম রাব্বি ভাটিয়ারী ইউনিয়নের পূর্ব হাসনাবাদ গ্রামের দিনমজুর বজলুর রহমানের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়।
কথা প্রসঙ্গে রাব্বি জানায়, সে শুরু থেকেই মনোযোগী ছিল। দিনের পড়ালেখা দিনেই শেষ করেছে। এ কারণে ভালো ফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
পা দিয়ে আঁকতে তার কোনো সমস্যা হয় না। পা দিয়ে সে ভালো আঁকতে পারে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে ব্যবহারিক পরীক্ষা রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু আঁকার কাজ আছে। তাই ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও ভালো নম্বর পেয়েছে। শুধু বাংলায় এ গ্রেড এসেছে। বাকি সব বিষয়ে এ প্লাস নম্বর পেয়েছে বলে জানায় রাব্বি।
রাব্বি এসএসসি পরীক্ষাতেও পা দিয়ে লিখে কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল। তার একমাত্র বোন রোকাইয়া আক্তারও তার সঙ্গে এসএসসি পাস করে। এসএসসি পাসের পর রাব্বির স্বপ্ন ছিল একটি সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সে সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করেছে। রাব্বির স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া।
রাব্বির বাবা বজলুর রহমান জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর ভাটিয়ারী হাজী টিএসি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে পদচারী-সেতুর নির্মাণকাজ চলছিল। শ্রমিকেরা পুরো কাজ শেষ না করেই সেতুটি খোলা রেখে চলে যান। ওই দিন দুপুরে টিফিনের বিরতিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বের হয়ে বাজারে যাচ্ছিল।
রফিকুল পদচারী-সেতুটি খোলা পেয়ে সেটি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলে পাশে থাকা বিদ্যুতের লাইনে স্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়। পরে চিকিৎসা শেষে তার দুটি হাতই বাদ দিতে হয়।
দুর্ঘটনায় ছেলের দুটি হাত হারানোর পর তিনি চরম বিপাকে পড়েন। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জাহাজভাঙা শিল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে খরচ বেড়ে যায়। এ কারণে ঋণের জালে আটকে পড়েন। তাই তিনি ও তার স্ত্রী দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকের কাজে নেমে পড়েন। ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালান।



