ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়প্রফেসর ইউনূসের প্রতি বিশ্বনেতাদের পূর্ণ সমর্থন

প্রফেসর ইউনূসের প্রতি বিশ্বনেতাদের পূর্ণ সমর্থন

নিউজ ডেস্ক : নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছেন বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার নিউইয়র্কে অধ্যাপক ইউনূসের হোটেল স্যুইটে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের অঙ্গীকার করেন।

সভায় নেতৃত্ব দেন লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামি গঞ্জাভি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের (এনজিআইসি) সহ-সভাপতি ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবারগা। এনজিআইসি’র নামকরণ করা হয়েছে একাদশ শতকের খ্যাতনামা পারস্য কবি নিজামি গঞ্জাভির নামে।

বৈঠকে উপস্থিত প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ

উচ্চপর্যায়ের এ দলে ছিলেন—

  • স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরুত পাহোর

  • সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরিস তাদিচ

  • লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস

  • ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল

  • গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ

  • বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিভ ও পেতার স্তোইয়ানোভ

  • ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো যোসিপোভিচ

  • বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্লাদেন ইভানিচ

  • মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চারজন সাবেক সভাপতি, একাধিক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনজিআইসি’র সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, মানবাধিকার সংগঠন রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস-এর প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি-এর প্রতিনিধিরা।

নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক ইউনূসের আজীবন দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও বর্তমান সংকটকালে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, “আমরা আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন জানাতে এসেছি। আমরা আপনার পাশে আছি।”

বক্তারা উল্লেখ করেন, ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে দীর্ঘ ১৬ বছরের দুর্নীতি, শোষণ ও কু-শাসনের কারণে দেশ এখন বড় চ্যালেঞ্জে রয়েছে। তাঁরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও দেশ পুনর্গঠন কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

কেরি কেনেডি বাংলাদেশের মানবাধিকার অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, “মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আপনাদের অর্জন অসাধারণ।”

জর্জটাউন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভিয়ার জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান শিগগিরই জুলাই বিপ্লবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করবে। এনজিআইসি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, “আপনাদের প্রয়োজন হলে আমরা আছি।”

অপ্রত্যাশিত এ সমর্থনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের একসঙ্গে আমাদের সমর্থনে দাঁড়ানো সত্যিই অবিশ্বাস্য।”

তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে তুলনা করেন একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পুনরুদ্ধারের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, “দেশটি গত ১৬ বছর ধরে একটি ভূমিকম্পের মধ্যে ছিল। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৯।”

প্রধান উপদেষ্টা স্বীকার করেন, সীমিত সম্পদের কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “মানুষ তাৎক্ষণিক পরিবর্তন দেখতে চায়। তবে আমাদের অবশ্যই তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে—তারা একটি নতুন বাংলাদেশ খুঁজছে।”

সভায় প্রফেসর ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সমর্থন করার জন্য। তিনি বলেন, “আমাদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আপনাদের পরামর্শ, সহযোগিতা ও নৈতিক শক্তি আমাদের জন্য অমূল্য।”

এ সময় এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।  সূত্র : বাসস

ঢাকানিউজ২৪/মহফ

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular