ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশরামগতিতে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর ও শিকলে বাঁধার অভিযোগ

রামগতিতে মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর ও শিকলে বাঁধার অভিযোগ

নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর, শারীরিক নির্যাতন ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মুহতামিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মধ্যে শিশুদের মারধরের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে শিশু শিক্ষার্থী আদনানকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতেও দেখা যায়।

অন্য একটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে ধরে মাথায় একাধিকবার আঘাত করতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের দৃশ্য রয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে শাসনের নামে মাদ্রাসাটির শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। কোনো কোনো শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

নির্যাতনের শিকার শিশু আদনানের মা-বাবাসহ একাধিক অভিভাবক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেছেন। তাঁরা বলেন, সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে সেখানে নির্যাতনের শিকার হতে হবে—এটি তাঁরা মেনে নিতে পারেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চান।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মুহতামিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরব। তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে। আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি।’

মাদ্রাসাটি ২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে বলে জানা গেছে। মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরব ইসলামি আন্দোলন রামগতি পৌরসভা শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পলাতক আছেন। তাকে আগে ধরা দিতে হবে, পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, অভিভাবকেরা তাঁর কাছে এসেছিলেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।

অভিভাবকদের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular