ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিক্ষারায়পুরে স্কুল ভবন নির্মাণে জটিলতা, তিন বছর ধরে থমকে আছে কাজ

রায়পুরে স্কুল ভবন নির্মাণে জটিলতা, তিন বছর ধরে থমকে আছে কাজ

নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে দাতা পক্ষ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এতে প্রায় তিন বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের পূর্ব সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনায় মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ১২ শতাংশ জমি নিয়ে দাতা পরিবারের উত্তরসূরীদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। এক পক্ষ দাবি করছে, ওই জমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি, অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে বাধা সৃষ্টি করায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

দাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিব উল্যাহ, কলিম উল্লাহ, রহমত উল্লাহ, সমাজসেবক বেল্লাল হোসেন, ফজর আলী, আবদুল মালেক, আনোয়ার গাজী, মাহবুবুর রহমান জনিসহ শতাধিক গ্রামবাসী মানববন্ধনে অংশ নেন।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের জন্য মোট ৫০ শতাংশ জমি থাকলেও রেকর্ডভুক্ত রয়েছে ৪২ শতাংশ। বর্তমানে বিদ্যালয়ের দখলে আছে প্রায় ১৭ শতাংশ জমি।

বিদ্যালয়টির জমি দাতাদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় এমদাদ উল্লাহ, আমিন উল্লাহ, মো. অজিউল্লাহ ও হাজী অলিউল্লাহ। অভিযোগ রয়েছে, হাজী অলিউল্লাহর দুই ওয়ারিশ—আব্দুল খালেক ও মালেক—নিজেদের দাবি করা ১২ শতাংশ জমিতে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

চলতি বছরে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে পাঠদান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমছে।

সম্প্রতি ভূমির দলিল, খতিয়ান ও সার্ভেয়ার পরিমাপের ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করা হলেও তা মানছেন না সংশ্লিষ্ট দুই ওয়ারিশ।

এ বিষয়ে দাতা পরিবারের সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, “এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমরা আমাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছি। তবে আমরাও চাই স্কুলটি থাকুক। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি।”

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঢাকানিউজ/নাজ/24

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular