ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধলক্ষ্মীপুরে মাদকের বিস্তার, ডিএনসির তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

লক্ষ্মীপুরে মাদকের বিস্তার, ডিএনসির তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে গত দুই বছরে মাদকের বিস্তার বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, মাদক নির্মূলে বড় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান তুলনামূলক কম।

মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ডিএনসি। জেলা শহরগুলোতে সংস্থাটির নিজস্ব কার্যালয় ও সার্কেল রয়েছে। এরপরও লক্ষ্মীপুরে মাদকের বিস্তার ঠেকানো যাচ্ছে না বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

ডিএনসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে লক্ষ্মীপুরে সংস্থাটি ২ হাজার ৪৮২টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ৪৮২টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৯৪ জনকে। একই সময়ে ১৪৭ কেজি গাঁজা, ৩১ হাজার ২০০টি ইয়াবা, ২৩ লিটার দেশীয় মদ এবং ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কাজ করা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তুলনায় এসব উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের পরিমাণ কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তাঁদের ভাষ্য, লক্ষ্মীপুরে বড় মাদক কারবারি বা বড় কোনো চালান আটকের ক্ষেত্রে ডিএনসির উল্লেখযোগ্য সাফল্য খুব বেশি দেখা যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, মাদক উদ্ধারের পর জব্দ করা নগদ টাকা, গাঁজা, ইয়াবাসহ অন্যান্য আলামত মামলার নথিতে সব সময় যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয় না।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ডিএনসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি বৈধ বারগুলোতে অভিযান পরিচালনায় কর্মকর্তাদের আগ্রহ বেশি—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও কোনো নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, তাঁর কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি বলেন, ‘তারপরও আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’

মাদক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে আরও যাচাই প্রয়োজন। বিশেষ করে গত দেড় বছরের অভিযান, উদ্ধার, জব্দ তালিকা, মামলা ও আলামতের হিসাব পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular