রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আজ শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। জেএসএসের (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থান ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি।
সংগঠন দুটির নেতারা অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, সাজেকে জেএসএসের সদস্যদের অবস্থান এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরাতে হবে। নয়তো আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।’
সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সাজেকের মাচালং উজো বাজারে আয়োজিত বিক্ষোভ ও সমাবেশ থেকে অবরোধের ঘোষণা দেন সংগঠন দুটির নেতারা।
তবে এ কর্মসূচি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে জেএসএস ও ইউপিডিএফ। জেএসএসের দাবি, ইউপিডিএফের চাপে পড়ে সংগঠন দুটি অবরোধের ডাক দিয়েছে। দলটির রাঙামাটি জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নগেন্দ্র চাকমা বলেন, সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের হুমকি দেয়নি জেএসএস। ইউপিডিএফই সংগঠন দুটিকে অবরোধ দিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, সংগঠন দুটিকে কর্মসূচি দিতে বাধ্য করার অভিযোগ সত্য নয়। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে তাদের নেওয়া কর্মসূচির প্রতি ইউপিডিএফের সমর্থন থাকবে।
সাজেকে অবস্থান করছেন কয়েক হাজার পর্যটক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি একটি পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, শুক্রবার রাতেও সেখানে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছিলেন।
অবরোধের প্রভাব বিবেচনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, তিনি সড়ক অবরোধের কর্মসূচির কথা শুনেছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় সকাল ১০টার দিকে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকেরা বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।



