ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিসিটি গ্রুপের ৫টি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ছাড়ে নতুন ঋণ

সিটি গ্রুপের ৫টি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ছাড়ে নতুন ঋণ

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সিটি গ্রুপের ৫টি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ছাড় দিয়ে ৩,০০০ কোটি টাকার নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধান তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
    • আইনি ছাড়: ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী সাধারণত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধ। 
    • ধারা স্থগিত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য: বাংলাদেশ ব্যাংক আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতাবলে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই আইনি বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছে। [দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের পাঁচটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ দিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারা স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এর ফলে খেলাপি হওয়ার কারণে নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে আইনি বাধা ছিল, তা আর থাকছে না।
    • সিন্ডিকেট: বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদের স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে এ ঋণসুবিধা দিতে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গঠন করা হবে।
      সাধারণত ব্যাংক কোম্পানি আইনের এই ধারা অনুযায়ী, খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সিটি গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের জন্য আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাটি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে তীর ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাতকারী শিল্পগোষ্ঠীটির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে চলতি মূলধন ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
      প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সিন্ডিকেটেড ঋণের অর্থে কেনা পণ্য বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। ওই হিসাব থেকে আনুপাতিক হারে সিন্ডিকেটের ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর পাওনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
      এ ছাড়া সিন্ডিকেটেড ঋণের অর্থে আমদানি করা কাঁচামাল ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণদাতা ব্যাংকগুলো সিকিউরিটি এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে কিনবে এবং জিম্মাদার হিসেবে তা প্রক্রিয়াজাত করবে। এসব শর্তের মাধ্যমে নতুন ঋণের অর্থের ব্যবহার, কাঁচামালের ব্যবস্থাপনা ও বিক্রয়লব্ধ অর্থের ওপর ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
      সিটি গ্রুপের কাছে দেশের ৪৩টি ব্যাংকের পাওনা ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব ঋণের বড় অংশ ইতিমধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে।
    • বিবেচিত ৫টি প্রতিষ্ঠান: ঋণ সুবিধা পেতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
      ১. সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
      ২. সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
      ৩. সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড
      ৪. সিটি ডাল মিলস লিমিটেড
      ৫. শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড
    • ঋণদাতা ব্যাংক সিন্ডিকেট: বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংক পিএলসি-এর নেতৃত্বে আটটি ব্যাংকের একটি কনসোর্টিয়াম বা সিন্ডিকেট এই ৩,০০০ কোটি টাকার চলতি মূলধন (Working Capital) জোগান দেবে। সিন্ডিকেটের অন্য ব্যাংকগুলো হলো—মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক এবং পূবালী ব্যাংক।
    • প্রধান উদ্দেশ্য: ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও আটার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং উৎপাদন সচল রাখাই এই বিশেষ পদক্ষেপের মূল কারণ।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্তাবলি:
  • দায়মুক্তি: এই ঋণের কোনো দায় সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক বহন করবে না। ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলো এর বিপরীতে কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।                                                     
  • শর্ত: নতুন ঋণসুবিধার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ঋণের বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না।
  • অনন্য জামানত (Collateral): ঋণের বিপরীতে সিটি গ্রুপকে এমন সম্পদ বন্ধক রাখতে হবে যা আগে অন্য কোনো ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।
  • তহবিল নিয়ন্ত্রণ (Escrow Account): ঋণের টাকায় কেনা কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। সেখান থেকে ব্যাংকগুলো আনুপাতিক হারে তাদের পাওনা নিয়মিত কেটে নেবে এবং এই অর্থ অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যাবে না।
আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular