অর্থনীতি ডেস্ক: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশের পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। এমনকি লেনদেনের শেষদিকে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও বাড়ে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ৭৬টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৬৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ৩টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২২ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৯১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।
এর মাধ্যমে গত ১৮ আগস্টের পর ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হলো। ১৮ আগস্ট ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়।
লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ওরিয়ান ইনফিউশন, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, মালেক স্পিনিং, অ্যাপেক্স স্পিনিং, এনভয় টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সায়হাম টেক্সটাইল।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির। কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইনডেক্স আগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডের শেয়ার দর ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।
এ ছাড়া ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড, মতিন স্পিনিং মিলস, তসরিফা ইন্ডান্ট্রিজ, এ্যাপেক্স স্পিনিং ও নিটিং মিলস, মুন্নু ফেব্রিক্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম অব রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫ দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার দর ৫ দশমিক ২০ শতাংশ কমেছে।
এ ছাড়া ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ব্যাংক ফাস্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-ওয়ান, এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান এবং গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০০টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭১টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা।




