দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাপসা গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি নিয়ে শ্রাবণ ফিরে এসেছে। রাজধানী ঢাকায় শ্রাবণের নবম দিনে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ঠান্ডা হাওয়া আর বজ্রসহ বৃষ্টিতে শহরবাসী কিছুটা আরাম পেয়েছেন। তবে এই বৃষ্টি সারা দেশে আরও কয়েক দিন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টা, অর্থাৎ রোববার বিকেল পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর সমকালকে বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়ছে। ঘন মেঘমালার বিস্তৃতির কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন শহরে অস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে।
লঘুচাপটি ঘনীভূত হওয়ায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয়। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় রয়েছে। গত চার-পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির ঘাটতি এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সেই তুলনায় বৃষ্টির এ ফেরায় কিছুটা স্বস্তি এলেও, বন্যা ও পাহাড়ি ঝুঁকির আশঙ্কা নতুন উদ্বেগ হয়ে দেখা দিয়েছে।



