নিউজ ডেস্ক: দেশের কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি) দেশের ৬৫৪টি বেসরকারি স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিম্ন-মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনার প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া জুনিয়র সেকেন্ডারি (ভোকেশনাল) ও জুনিয়র দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ২৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে অনুমোদনহীন বেসরকারি স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নিম্ন-মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম পরিচালনার জন্য এই প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেনি, তাদের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত অনুমতিপত্র সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৩ জুলাই পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, জুনিয়র সেকেন্ডারি (ভোকেশনাল) এবং জুনিয়র দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ১২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে। একই সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে।
রেজিস্ট্রেশন ফি ৯৮ টাকা
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মোট ৯৮ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- রেজিস্ট্রেশন ফি: ৫০ টাকা
- স্কাউট/গার্লস গাইড ফি: ৪০ টাকা
- রেড ক্রিসেন্ট ফি: ৮ টাকা
এই অর্থ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক একত্রে সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
বয়সসীমা ও অন্যান্য নির্দেশনা
বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ৯ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে দ্বিতীয় শিফট এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বসীমা শিথিলযোগ্য।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে আপলোডের জন্য তিন সদস্যের রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বহন করতে হবে।
কারিগরি শিক্ষার বিস্তারে নতুন সুযোগ
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন ৬৫৪টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোকেশনাল শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




