• ঢাকা
  • রবিবার, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২১ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

নির্বাচনের পর ৭০ দেশ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৫৬ পিএম
নির্বাচনের পর ৭০ দেশ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ৭০টি দেশের সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং এ সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। 

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রধান চিঠি লিখে বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে মার্কিন সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো দৃঢ় ও বিস্তৃত করার কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কমিশন অভিনন্দন জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ, ওআইসিসহ ২০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তাই যারা বিদেশিদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবছে, তাদের চেহারা মলিন হয়ে গেছে।

ড. হাসান মাহমুদ বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তি পেয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেও হেরে গেছেন। বিশ্ববাসী সরকারকে অভিনন্দন জানানো ও বিএনপির নির্বাচন বর্জন করার কারণে তারা তাদের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছে। কর্মীদের কাছে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা এসব বক্তব্য দিচ্ছে। বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের অতীতের সরকারগুলোর ছেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে অন্যতম মধ্যমনি ছিলেন শেখ হাসিনা। সময়ের অভাবে তিনি সেখানে অনেক রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন নি। 

সভায় সিনিয়র সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কলম ধরতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থায় অবশ্যই সরকারের সমালোচনা হবে। সরকারের ভুল কর্মের জন্য প্রতিবাদ হবে। কিন্তু রাজনীতির নামে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার রাজনীতি চিরতরে অবসান হওয়া দরকার। দেশের ভাষা আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলনে সাংবাদিকরা যেভাবে অবদান রেখেছিল, সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়তে আপনারা সেভাবে আপনারা অগ্ৰনী ভুমিকা পালন করতে হবে। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও দায়ীত্বশীলতা এবং সংবাদ মাধ্যমের ইতিবাচক ভুমিকা আশা করে। কিন্তু দিনের শুরুতে পত্রিকা খুললেই যেভাবে নেতিবাচক সংবাদের প্রাধান্য থাকে, তখন মনে হয়, প্রচন্ড নেতিবাচকতা দিয়ে যদি দিন শুরু হয়, তাহলে তার ভেতরে থাকা ইতিবাচক শক্তিটা দুর্বল হয়ে পড়ে। নেতিবাচক সংবাদ ছাড়া নাকি কাটতি হয়না। পাঠকের মননশীলতা তৈরি করার জন্য সংবাদ মাধ্যমের ইতিবাচক ভুমিকা দরকার। দেশে নতুন নতুন মিডিয়া তৈরি হচ্ছে। এর ব্যাপ্তি বাড়ছে। সেটার সাথে তাল মিলিয়ে নতুন মানুষ যুক্ত হবে। কেউ নিউ মিডিয়ার কনসেপ্টের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে না নিতে পারলে পেশা থেকে বাদ পড়বেন। এজন্য বিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে আমাদের সবাইকে চলতে হবে। নিত্য নতুন অনেক চ্যালেঞ্জ আসছে, সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে এবং এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। 

ডা. দিপু মনি বলেন, আমাদের সমাজে স্বেচ্ছাসেবার একটা স্পৃহা ছিল, যে কারণে মায়েরা রান্নার আগে এক মুঠো চাউল রেখে দিতেন। সেই মুষ্ঠি চাল দিয়ে সমাজের নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক উন্নয়ন কাজ হতো। এখনও আমরা মানুষকে স্বেচ্ছাসেবার প্রতি উদ্ভোদ্ধ করতে পারলে কোন সকল ধরনের চ্যালেঞ্জকে আমরা জয় করতে পারবো। 

সাংবাদিকরা সমাজের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ। মানুষের মনন গঠন ও সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক বার্তা দেয়া ও সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষের মনন গঠন করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের লিখনী ও সংবাদ বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের লেখনি, রিপোর্টিং ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর বক্তব্য প্রতিবাদ বিরাট ভুমিকা পালন করেছে। আজকে যখন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখনও আমাদেরকে নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৭ জানুয়ারী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এগুলো মোকাবেলা করেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। ইউরোপভুক্ত দেশ পুর্তগালে ২ বছর আগে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে ৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। আয়ারল্যান্ডের ভোটেও ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। বাংলাদেশে ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত সকল নির্বাচনের তুলনায় ৭ জানুয়ারী নির্বাচন সহিংসতা মুক্ত হয়েছে। সত্যিকার অর্থে নির্বাচন উৎসবমুখর হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, যারা নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্ৰস্থ করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে ছিল, নির্বাচনের পর বিশ্ববাসী কি প্রতিক্রিয়া দেয়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল। 

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে সাংবাদিকরা যার যার অবস্থান থেকে কাজ করবে। 

বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ১৯৭২সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। কারা সাংবাদিক হবেন, সংবাদ পত্রের মালিক হবেন,তা নিয়ে বঙ্গবন্ধু কথা বলেছিলেন। তার সেই প্রশ্নগুলো আজও উত্থাপিত হচ্ছে। কারা সংবাদ পত্র চালাচ্ছে। কোত্থেকে টাকা পাচ্ছে। আজকে দেশে এতগুলো সংবাদ পত্র প্রকাশিত হচ্ছে, মাঠে পাওয়া না গেলেও তালিকায় রয়েছে। এগুলো সাংবাদিক ইউনিয়কে দেখতে হবে। 

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি সংবাদ পত্রেরই মানুষ। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বিষয়ে বেশি কথা বলবো। 

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, গনমাধ্যমের নানা সংকট রয়েছে। আমাদের সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে আরো বেশি সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে অনেক বেশি সংবাদপত্র, টেলিভিশন এফএম রেডিও এবং অন্যান্য রেডিও রয়েছে। সাংবাদিকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সব সাংবাদিক ভালো নেই -এটাও সত্য কথা। যারা রুটি-রুজির সংগ্রামে আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠার সন্ধানে আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আত্মমর্যাদা বোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই বিএফইউজে, ডিইউজে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সেগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএফইউজের দাবিগুলো সাধারণভাবে সমগ্র সাংবাদিক সমাজের দাবী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে অবিলম্বে দশম বোর্ড ও ৭০ ভাগ মহার্ঘ ভাতা, নবম ওয়েজ বোর্ডের বকেয়া আদায়, পেনশন, গণমাধ্যম কর্মী আইন, টেলিভিশনের অভিন্ন বেতন কাঠামো, সকল সাংবাদিকের নিয়োগ পত্র, বেতন-ভাতা নিয়মিত করা, আবাসিক সমস্যা সমাধান করা, জাতীয় সম্প্রচার আইন করার দাবি। প্রশ্নটা এই জায়গায়, দাবিগুলো তো সব আছে, দীর্ঘদিন ধরে আছে এটি চলমান দাবীতে পরিণত হয়েছে। এখন এই দাবিগুলো কিভাবে আদায় হবে, দাবিগুলো কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেই রনকৌশলটা ঠিক করতে হবে। সেই পদ্ধতিটা ঠিক করতে হবে এবং এই দাবি আদায়ের জন্যে ঐক্যবদ্ধভাবে সকলের সম্মিলিত চেষ্টা, ক্ষমতায়, শক্তিতে, আমাদের একটি অভিন্ন কর্ম কৌশল নির্ধারণ ছাড়া আর কোন পথ নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি আমরা যতটা শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে পারি ততটাই আমাদের দাবি আদায় হবে। সাংবাদিক সমাজের জন্যে কল্যাণ বয়ে আনতে পারবো। নিশ্চয়ই যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের উপর আমাদের বিশ্বাস আছে আস্থা আছে, আমরা সেদিনের স্বপ্ন দেখছি, যাতে আমরা যেই স্বপ্ন নিয়ে এই পেশায় আত্মনিয়োগ করছি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শেখ মামুনুর রশিদ, বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আলী আশরাফ প্রমুখ। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সম্মাণনা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।

 

ঢাকানিউজ২৪.কম / জেডএস/সানি

আরো পড়ুন

banner image
banner image