• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ২৫ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ভোটযুদ্ধে ভাই বোন, পারিবারিক সন্মান ক্ষুন্নে আশঙ্কা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০২ জানুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪৩ এএম
সংযত ও সতর্কতা অবলম্বন
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই সন্তান

নিউজ ডেস্ক:  কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের দুই সন্তান। ভাই-বোনের এই লড়াই আসনটিতে নির্বাচনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। প্রচারণায় একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।

সদর ও হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসন গঠিত। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাকিয়ার বড় ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সাফায়েতুল ইসলাম।  

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ও দুই পক্ষের প্রচারণায় গিয়ে জানা গেছে, দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেদের ভোট চাওয়ার চেয়ে বেশি চলছে পাল্টাপাল্টি বিষোদ্‌গার। কেউ তুলে ধরছেন মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের কথা। কারও কণ্ঠে উন্নয়ন না হওয়ার কথা। কেউ আবার অভিযোগ করছেন ভোট কিনতে টাকা ছড়ানোর। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটলেও ভোটারদের মনে সংঘাতের শঙ্কা রয়েছে।

সদরের কয়েকজন ভোটার বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে সৈয়দ নজরুল ইসলামের বিশেষ অবদান রয়েছে। তা ছাড়া তাঁর ছেলে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন একজন ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতা। এই পরিবারের সদস্যরা একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে যেভাবে সমালোচনা করছেন, তা দুঃখজনক।

জানা গেছে, ভাই-বোনের ভোটের লড়াইকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জাকিয়া নূরের পথসভা ও প্রচারণায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা কাজ করছেন। এ ছাড়া জাকিয়া নূরের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সৈয়দ নজরুলের অপর দুই ছেলে ও এক মেয়েও নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন।

সাফায়েতুল ইসলামের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁর চাচাতো ভাই সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনিও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে সাফায়েতুলকে সমর্থন জানান। এ ছাড়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আওলাদ হোসেনও সাফায়েতের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গত বুধবার সদর উপজেলার বৌলাই এলাকায় পথসভা করেন সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর বড় ভাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ আসন থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এলাকার জন্য অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর গত পাঁচ বছরে সংসদ সদস্য ছোট বোন লিপি কোনো উন্নয়ন করেননি। এমনকি ভাইয়ের করা উন্নয়নমূলক কাজগুলোরও এখন দৈন্যদশা। এলাকার মানুষের বিকল্প প্রার্থীর দাবির কারণে মনোনয়ন চেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন না দিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় ভোটারদের দাবিতে আমি নির্বাচন করছি। অন্য ভাই-বোনেরাও যোগ হয়ে আমার বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে। মনে হচ্ছে, ওরাই সৈয়দ নজরুলের সন্তান। আর আমি সৈয়দ নজরুলের সন্তান নই।’

নৌকার প্রার্থী সৈয়দা জাকিয়া নূর শহরের পুরোনো থানার একটি পথসভায়  বলেন, গত পাঁচ বছর ভোটারদের পাশে থেকে চেষ্টা করেছেন বড় ভাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। এতে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি যদি নৌকা মার্কা না পেতাম, তাহলে কখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করতাম না। কারণ, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্বদানকারী সৈয়দ নজরুলের কন্যা আমি। তাই নৌকা আমার পরিবারের মার্কা। এর বাইরে আমরা চিন্তা করতে পারি না। অথচ আমার বড় ভাই সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম পরিবারের বাইরে গিয়ে আমার বিরোধিতা করে এমন একটি কাজ করবে, যেটা আমরা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি।’ যখন এই চিন্তা করেন, তখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় উল্লেখ করে জাকিয়া নূর বলেন, ‘যে ভাই আমাকে আগলে রাখার কথা, সেই ভাই আমার বিরুদ্ধে, নৌকার বিরুদ্ধে, জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কাজ করছে। আল্লাহ আমার ভাইকে হেদায়েত দান করুক। আমার ভাইয়ের যেন সুবুদ্ধি হয়।’

কিশোরগঞ্জ সদরের শোলাকিয়া এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আবদুর রহিম বলেন, ‘ভাই-বোনের প্রচারণায় যেসব আক্রমণাত্মক বাক্যবিনিময় হয়, তা শুনে আমার মতো সাধারণ মানুষেরা বেক্কল হয়ে যাই। এই পরিবারের লোকজনের মুখে এসব কথা মানায় না।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। আর প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য যেহেতু দলের পক্ষ থেকেই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাই নির্বাচন করাতে দোষের কিছু নেই। তবে কথাবার্তায় সবাইকে আরও সংযত ও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে আছেন জাতীয় পার্টির মো. আবদুল হাই (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোবারক হোসেন (ডাব), ইসলামী ঐক্যজোটের মো. আশরাফ উদ্দিন (মিনার), গণতন্ত্রী পার্টির ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন (কবুতর), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মো. আবদুল আউয়াল (ছড়ি) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. আনোয়ারুল কিবরিয়া (আম)।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image