• ঢাকা
  • সোমবার, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৭ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

বাথরুমে টুকরো করা হয় এমপি আনারের লাশ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৪৬ পিএম
বাথরুমে টুকরো করা হয়
এমপি আনারের লাশ

নিউজ ডেস্ক : ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার পর লাশ টুকরো করার বর্ণনা দিয়েছেন জড়িতরা। কলকাতায় গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার ওরফে ‘কসাই জিহাদ’ জানান, নিউ টাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্সের বাথরুমে টুকরো টুকরো করা হয় এমপি আজীমের লাশ। এর আগে প্রায় এক ঘণ্টা মরদেহটি মেঝেতে পড়ে ছিল। পরে চারজন মিলে টেনে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে যান। গতকাল সোমবার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ইন্টারপোলের বাংলাদেশি ডেস্কের (এনসিবি) এআইজি আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে পলাতক দুইজনের সম্পর্কে জানার পর আমরা ইন্টারপোলে যোগাযোগ শুরু করেছি।’

এদিকে এমপি আজীম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহীন ও কিলিং মিশনের সদস্য সিয়ামকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর গত ২০ মে শাহীন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে প্রথমে দিল্লি যান। সেখান থেকে যান নেপালে। এর পর সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের পাশাপাশি শাহীনের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে। তাই তাঁর ব্যাপারে ইন্টারপোলের যুক্তরাষ্ট্র ডেস্কে গতকাল চিঠি পাঠানো হয়। আর সিয়াম ঘটনার পর ভারত থেকে নেপালে গেছেন বলে জানা যায়। তাঁকে আইনের আওতায় আনতে ইন্টারপোলের নেপাল শাখায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য, এমপি আজীম হত্যায় অন্যতম অভিযুক্ত জিহাদ হাওলাদার জেরায় জানিয়েছেন– হত্যার পর মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করার দায়িত্ব ছিল তাঁর। এর পর তা টুকরো টুকরো করা হয়। শরীর থেকে চামড়া ছাড়িয়ে আলাদা করা হয় মাংস ও হাড়। লাশ টুকরো করার কাজ জিহাদ করলেও তা গায়েব করার দায়িত্ব ছিল ফয়সালের ওপর। এর আগে কলকাতা থেকে ভিডিও কলে ঢাকায় গ্রেপ্তার তিনজনকে জেরা করেন গোয়েন্দারা। আজীমকে ফ্ল্যাটে নেওয়ার পর কী ঘটে তখন, তার বর্ণনা দেন তারা। ঢাকায় গ্রেপ্তার শিমুল ভূঁইয়া, সেলিস্তি রহমানসহ তিনজনের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে জিহাদের দেওয়া তথ্যের মিল আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই গতকাল কলকাতায় দুই দেশের তদন্ত কর্মকর্তারা নানা জায়গায় ছোটেন। সকাল ১০টায় নিউ টাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্সে যান বাংলাদেশের তিন গোয়েন্দা। এ সময় কলকাতা সিআইডির কর্মকর্তাও ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টা দিকে সেখানে নেওয়া হয় জিহাদকে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সামনে ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। এর পর তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা পোলেরহাট থানার কৃষ্ণমাটি বাগজোলা খালের কাছে যান। হত্যায় জড়িতদের তথ্যমতে, লাশের টুকরো ফেলা হয়েছে সেখানে। তবে গতকাল পর্যন্ত কোনো আলামত মেলেনি। এর পর জিহাদের সঙ্গে ক্যাবচালক জুবেরের বর্ণনা মিলিয়ে দেখতে তদন্তকারীরা ছোটেন নিউ টাউন শহরের একাধিক জায়গায়।

বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে কলকাতায় হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে নেমে এ ঘটনায় বাংলাদেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। কলকাতা পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। যে কায়দায় হত্যা করা হয়েছে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন। ঠান্ডা মাথায় লাশের টুকরো গুম করা হয়েছে।’  

ডিবি প্রধান আরও বলেন, ‘যে আলিশান বাড়িতে সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে, মনে হয় এখনও সেখানে ঘাতকদের অট্টহাসি শুনতে পাচ্ছি। চাকরি জীবনে অনেক খুনের তদন্ত করেছি। কিন্তু এমন ঠান্ডা মাথার খুন দেখিনি। দেশে ফিরে সেলিস্তি রহমানের সঙ্গে কথা বলব। তাঁর ভূমিকার চুলচেরা বিশ্লেষণ করব।’  

গোয়েন্দা সূত্রমতে, এমপি আজীম হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজন এখনও গ্রেপ্তারের বাইরে। হত্যা ছকের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ভাড়াটে দুই খুনিকে কলকাতায় নেওয়া হয়। তারা হলেন জিহাদ ও সিয়াম। তাদের দু’জনের পাসপোর্ট তৈরি করে দেন শাহীন। হত্যার সাত থেকে আট দিন আগে বাংলাদেশি দুই ভাড়াটে কিলার কলকাতায় যান। আর সেখানে আরও দুই ভারতীয় ভাড়াটে খুনিকে তৈরি রাখা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আজীম হত্যাকাণ্ডে ভারত-বাংলাদেশের মোট চার ভাড়াটে খুনি এবং শাহীন ও তাঁর বেয়াই শিমুল জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

হত্যায় জড়িতদের অন্তত চারজন চরমপন্থি পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন শিমুল ভূঁইয়া, জিহাদ, সিয়াম ও মুস্তাফিজ। তাদের দলনেতা শিমুল ভূঁইয়া। এর আগে তিনি আরও পাঁচ-ছয়জনের গলা কাটেন। পুলিশ বলছে, সংসদ সদস্য আজীমের সঙ্গে চরমপন্থি গ্রুপের শত্রুতা ছিল। এসব বিষয় সামনে রেখেই চলছে তদন্ত।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image