• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৮ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

আমদানি সত্ত্বেও কমছে না পেঁয়াজের দাম  


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ আগষ্ট, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১১ পিএম
আমদানি সত্ত্বেও কমছে না
পেঁয়াজের দাম  

নিউজ ডেস্ক : খুচরা পর্যায়ে প্রায় সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পথে দেশি পেঁয়াজের দাম । পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আদা ও রসুনের দামও ।  আমদানি সত্ত্বেও কমছে না পেঁয়াজের দাম ।  

শুক্রবার ( ২৫ আগস্ট) কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ, জিনজিরা ও আগানগর এবং রাজধানীর কারওয়ানবাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজার, পুরান ঢাকার শ্যামবাজার ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায় ।  

পেঁয়াজের এই ঊর্ধ্বমুখী দামে হাঁসফাঁস অবস্থা ক্রেতাদের । তাদের দাবি, ভারতের পেঁয়াজ রফতানিতে শুল্কায়নের অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছে বিক্রেতারা ।  

ভারতের পেঁয়াজ রফতানিতে শুল্ক আরোপের খবরে দেশের বাজারে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম । খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত । আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় ।   ক্রেতা সাগর বলেন, সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে । তবুও কেন দাম বাড়ছে? বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন ।  

এক ক্রেতা বলেন, বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম ঊর্ধ্বমুখী । এর মধ্যেই আবার বাড়ছে পেঁয়াজের দাম । এতে খরচ বাড়ছে ।   বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে পর্যাপ্ত মজুত নেই । পাশাপাশি ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে শুল্ক আরোপ করায় দেশর বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে ।   কেরানীগঞ্জের আগানগর বাজারের বিক্রেতা লোকমান বলেন, ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে শুল্ক আরোপ করায় পাইকারি পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম বাড়তি । এ ছাড়া পরিবহন ও শ্রমিক খরচ রয়েছে । এতে খুচরা বাজারেও দাম বাড়ছে ।  

পেঁয়াজের পাইকারি বাজারের দাম জানতে পুরান ঢাকার শ্যামবাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি পাঁচ কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় । আর প্রতি পাঁচ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায় ।  

শ্যামবাজারের পাইকারি বিক্রেতা সেলিম বলেন, আড়তগুলো থেকে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মিলেছে না । দামও বেশ চড়া । ফলে পাইকারি পর্যায়ে দাম কিছুটা বাড়িয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে ।  

আর আড়তদারদের দাবি, আড়ত পর্যায়ে পেয়াজের দাম নাগালের মধ্যেই আছে । খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে ।   পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের আলম টেডার্সের মালিক প্রদীপ সাহা বলেন, আড়ত পর্যায়ে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় । আর প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৩ থেকে ৫৫ টাকায় ।  

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের রিতা- মুক্তা বাণিজ্যালয়ের নূরুল ইসলাম বলেন,  ভারতের শুল্ক আরোপের প্রভাব পড়েছে বাজারে । তা ছাড়া মুনাফার আশায় খুচরা পর্যায়ে কিছুটা বাড়তি দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করে থাকেন ব্যবসায়ীরা ।   এদিকে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত ছাড়াও চীন, মিশরসহ ৯ দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে ।

বৃহস্পতিবার ( ২৪ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ভারত থেকে তো আমদানি অব্যাহত রয়েছেই, এর বাইরে ৯টি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে ।  

তিনি আরও বলেন, চীন থেকে ২ হাজার ৪০০ টন, মিশর থেকে ৩ হাজার ৯১০ টন, পাকিস্তান থেকে ১১ হাজার ৮২০ টন, কাতার থেকে ১ হাজার ১০০ টন, তুরস্ক থেকে ২ হাজার ১১০ টন, মিয়ানমার থেকে ২০০ টন, থাইল্যান্ড থেকে ৩৩ টন, নেদারল্যান্ডস থেকে ৪ টন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে ।  

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির বিপরীতে দেশে এসেছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টন ।   পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি প্রসঙ্গে কারওয়ানবাজারের মিনহাজ বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. খলিল বলেন,  আমদানির অনুমতি দেয়া হলেও, এলসি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে পেঁয়াজ দেশে আসতে আসতে অনেক সময় লেগে যাবে । তা ছাড়া সেসব দেশ থেকে আনা পেঁয়াজের দামও তুলনামূলক বেশি পড়বে । এতে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে । 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image