• ঢাকা
  • বুধবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২২ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

জমি অধিগ্রহন বিলম্বে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৮ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:২৬ পিএম
জমি অধিগ্রহন বিলম্বে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
সেতু নির্মাণ

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ নগরীর অভ্যন্তরে ব্রহ্মপূত্র নদের উপর আরো ৩টি সেতু নির্মাণে পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর রহমতপুরে এই সেতুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার পর ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও ভূমি অধিগ্রহন সম্পন্ন না হওয়ায় এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি । আগামী ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি বর্তমানে জিরো শতাংশ।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে শেরপুর (কানাসাখোলা)-ভীমগঞ্জ- নারায়ণখোলা-রামভদ্রপুর-পরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ (রহমতপুর) সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে শেরপুরের সাথে ময়মনসিংহসহ রাজধানীর সাথে দূরত্ব প্রায় ২০ কি.মি. হ্রাস পাবে। সেইসাথে নাঁকুগাও স্থলবন্দর, কুড়িগ্রাম ও উত্তরবঙ্গের সাথে যোগযোড়ের রাস্তাও ২০ কি.মি. করে কমে যাবে।

প্রকল্পের ৪নং প্যাকেজে ব্রহ্মপূত্র নদের উপর স্টীল আর্চ ব্রীজ নির্মাণে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্পটির ভিত্তি স্থাপনের পর দ্রুত কাজ শুরু করার ব্রত নিয়ে ময়মনসিংহ নগরীর রহমতপুর এলাকায় জমি ভাড়া নিয়ে বিশাল ক্যাম্প অফিস স্থাপন করেছে। 

স্টীল ফ্রেম, কংক্রিট  স্ল্যাভ, বিশাল আকারের ক্রেনসহ বিভিন্ন ভারী ভারী নির্মাণসামগ্রী ক্যাম্প অফিসে আনা হয়েছে। প্রকৌশলী কর্মচারী ও লেবার সেট স্থাপন করা হয়েছে।  কাজ শুরু করতে না পারায় বিগত প্রায় ৭ মাস ধরে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। বিগত প্রায় সাত মাসে প্রায় কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। এসময় ময়মনসিংহবাসীর মাঝে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হলেও কিছু মানুষের বাধায় গত প্রায় ৬ মাস যাবত সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

গতকাল বুধবার প্রকল্প ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসেন ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সদর মোহাম্মদ খলিলুর রহমান প্রমুখ। 

স্থানীয়দের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তারা জানান, যাদের জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে তাদের কেউই এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি তাই তাদের আপত্তি। সেতু নির্মাণে তাদের বাধা দেয়ার কোন ইচ্ছে নেই কিন্তু তার পূর্বে যেন প্রকৃত ভুমি মালিকদের প্রাপ্য বুঝিয়ে তারপর কাজ শুরু করার দাবী এলাকাবাসীর। সর্বশেষ ৪ ধারার নোটিশ পেলেও ৭ এবং ৮ ধারার নোটিশ পাননি ভূমি মালিকরা। ৮ ধারার চূড়ান্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর ক্ষতিপূরণের টাকা পেলে সেতু নির্মাণে কোন আপত্তি নেই তাদের।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যায়ে এক হাজার ৪৭২ মিটার দীর্ঘ  ব্রহ্মপূত্র নদের সেতু নির্মাণসহ রেলওয়ে ওভার পাস নির্মাণ করা হবে। মূল সেতুটিতে ৩৩০ মিটার স্টীল নেটওয়ার্ক স্ট্রাসের ৩টি স্প্যান, ২৩টি পিসি গার্ডার, ৭৮৫ মিটার এপ্রোচ সড়ক, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, স্ট্রিট লাইটিং, ফুটপাত ও ড্রেন এবং ইন্টারসেকশন থাকবে। সেতুটির কাজ পেয়েছে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মাঝে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও শুধুমাত্র ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার জন্য এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হয়নি।

এ বিষয়ে রহমতপুর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় অধিবাসীদের ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় সেতু নির্মাণ কাজ শুর করা যাচ্ছেনা। ভারী যন্ত্রসামগ্রী এখানে পড়ে থাকায় এবং সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যায় করতে হচ্ছে। এ জন্য জেলা প্রশাসনকে আরও তৎপরতা বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।

নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসাইন জানান, সেতুটি নির্মাণের পূর্বে স্থানীয়দের সাথে একাধিকবার মতবিনিময় সভা করা হয়েছে এবং সেতু নির্মাণের সুফল সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করেই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ প্রদানের পর গুজবে কান দিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছে। এজন্য এখন জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে যৌথ তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী জানান, যথাযথ নিয়ম মেনে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে অধিগ্রহণের বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। যৌথ তদন্ত শেষ হলে শীঘ্রই ৭ ধারার নোটিশ প্রদান করা হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব মোঃ নজরুল ইসলামের প্রাণপণ প্রচেষ্টার বদৌলতে দ্রæত সময়ের মধ্যে শেরপুর (কানাসাখোলা) - ভীমগঞ্জ - নারায়ণখোলা - রামভদ্রপুর - পরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ (রহমতপুর) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটির অনুমোদন লাভ করে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি ২৭ লাখ টাকার প্রকল্পসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১০ মে’র সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫ হাজার ৮২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। মে ২০২২ হতে এপ্রিল ২০২৫ খ্রি. এর মধ্যে এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হবে। ময়মনসিংহ অংশে রেলওয়ে ওভারপাসসহ ব্রহ্মপুত্র নদের উপর প্রায় দেড় কিলোমিটার সেতুসহ (দৈর্ঘ্য-১৪৭১.৬৬ মিটার) সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ৪৪.৯০৬ কি:মি:। এছাড়াও আরো ৭টি সেতু এবং ৭৭টিআরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে শেরপুরের সাথে ময়মনসিংহসহ রাজধানীর সাথে দূরত্ব প্রায় ২০ কি.মি. কমে যাবে। শেরপুর ও ময়মনসিংহ এর সাথে সড়ক কাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমেসমগ্র দেশে সার, পাট, কৃষিজাত উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজতর করা। উন্নত সওজ সড়ক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের সাথে সমগ্র দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। নিরবিচ্ছিন্ন, যানজটমুক্ত নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা। টেকসই ও ব্যয়সাশ্রয়ী (পরিবহন ব্যয় ও সময়) সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image