• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

এলসি জটিলতায় কমছে খাদ্যপণ্য আমদানি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:২৮ পিএম
খাদ্যপণ্য আমদানি কম
এলসি জটিলতা

নিউজ ডেস্ক : খাদ্যপণ্য আমদানিতে শুল্ক কমিয়েও  চাল-গমের আমদানি বাড়ানো যায়নি। এমনকি এসব পণ্য আমদানিতে এলসিও কম খোলা হচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে, এলসি খোলার পরও পণ্য দেশে আনার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের তেমন আগ্রহ নেই। এতে চাহিদার তুলনায় যোগান কমে যাওয়ায় হুহু করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। তবে সংকট মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান খাদ্য, বাণিজ্য ও কৃষি সচিব।

দেশের বাজারে চিনি সংকটের কারণ হিসেবে আমদানি জটিলতার চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব গোলাম রহমান বলেন, চিনি আনার জন্য আমাদের প্রায় ২৭ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের এলসি করতে হয়। এলসি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি একটি নির্দেশনা আছে যে ৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের এলসি করা যাবে না। তাহলে আমাদের কী করার আছে?

শুধু কি চিনির দাম বাড়ছে? বাড়ছে আটা, ময়দা, চালের দামও। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসব পণ্যের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। তারপরও ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানান খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছেন, যেসব পণ্য ১ হাজার টন থেকে ২ হাজার টন পর্যন্ত আনার অনুমতি দেয়া হয়েছে, সেগুলোর ব্যবসায়ীদের বাড়তি পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে তাদের তেমন একটা লাভ হচ্ছে না।

আমদানি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সরকারিভাবে ৫ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির এলসি খোলা হলেও ৮ নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৬৯৫ মেট্রিক টন। আর ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির এলসি খোলা হলেও আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪১৩ মেট্রিক টন। এছাড়া বেসরকারিভাবে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার টন চাল আমদানির এলসি খোলা হলেও দেশে এসেছে ২ লাখ ৭৩ হাজার টন।

তাই এবার বাজার স্থিতিশীল করতে আমদানির পাশাপাশি নতুন ধান ওঠার অপেক্ষায় দিন গুনছে খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়। খাদ্য সচিব বলেন, আমরা যদি নতুন ধান ওঠার পর লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ধান সংগ্রহ করতে পারি তাহলে শঙ্কার কেনো কারণ নেই।

সরবরাহে ঘাটতি পূরণে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, কৃষি পণ্যের দাম যখন বেশি বেড়ে যায়, তখন আমরা সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আমদানি করে বাজারকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করি।  

এ অবস্থায় অতি মুনাফালোভীদের ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। দাম বেঁধে না দিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং সেটির জন্য সরকারের কৌশল বাস্তবায়ন করা হয় বলে জানান কৃষি সচিব।

খাদ্য সচিব বলেন, কেউ যাতে বেআইনিভাবে প্রচুর চাল মজুত করে কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করতে না পারে সে জন্য তদারকি করা হচ্ছে।

তবে বাজারে দাম বৃদ্ধির আঁচ থেকে নিম্ন আয়ের ভোক্তাদের রক্ষা করতে সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য দেয়ার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেন, প্রথমত পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তারপর বিশ্ব বাজারের দামে সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। যেহেতু ডলারের দাম বেড়ে গেছে, সেটির সঙ্গে সমন্বয় করে ন্যায্যমূল্যে পণ্য দেয়ার চেষ্টা করি আমরা।

খাদ্য সংকটের শঙ্কা থেকে অতিরিক্ত পণ্য না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image