• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বুয়েট শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডে চনপাড়া বস্তি নিয়ে ভয়ংকর তথ্য


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৮ এএম
পরশ হত্যাকান্ডে চনপাড়া বস্তি
বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন

নিউজ ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের চনপাড়া বস্তিতে ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে মাদক। সহজলভ্য হওয়ায় ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে চনপাড়ায় ভিড় জমায় মাদকসেবীরা। বস্তির নটি ওয়ার্ডের অন্তত ১১৪টি স্পটে বিক্রি হয় মাদক। আর এ বাণিজ্যে জড়িত কয়েকশ মাদক কারবারি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ধরে চলছে মাদক বাণিজ্য।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়ার এক বাসিন্দা মাদক কারবারিদের হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানান সময় সংবাদের কাছে। তিনি জানান, এলাকার লোকজন তাদের (মাদক কারবারি) হাতে জিম্মি। কয়েকদিন পর পর তাদের নিজেদের মধ্যেকার দ্বন্দ্বে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তখন অগ্নিসংযোগ করা হয় বাড়িঘরে, করা হয় লুটপাটও। ঘটে ধর্ষণের মতো ঘটনাও। কয়েক মাস আগে দুই মাদক কারবারি গ্রুপের সংঘর্ষের পর পাঁচ থেকে ৬শ বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

তবে বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন হত্যাকাণ্ডের পর আবারও আলোচনায় মাদকসহ নানা অপরাধের দুর্গ হিসেবে পরিচিত চনপাড়া বস্তি। তিন পাশেই জলবেষ্টিত এ এলাকাটি মাদকের ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে।

এক নারী অভিযোগ করে জানান, সিটি শাহিন রাজা ও রায়হান এ এলাকার ৪ থেকে ৫টি মেয়েকে ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে। এলাকাতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করতো তারা।

চনপাড়ায় গত পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময় বসবাস করেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারির নাম। বস্তির ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি গলিতে প্রকাশ্যে চলে মাদকের কারবার। অন্তত ১১৪টি স্পটে বিক্রি হয় মাদক। কয়েকশ মাদক কারবারিকে আশ্রয়প্রশ্রয় দেন এখানকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বজলুর রহমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, বজলুর রহমানের অনুমতি ছাড়া একজন পুলিশও এলাকাতে প্রবেশ করে না। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে, খাচ্ছে। পুরো এলাকাই তার নিয়ন্ত্রণে। বজলুর রহমান রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (চনপাড়া) সদস্য। একই সঙ্গে তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানও।

তিন দিন আগে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সিটি শাহীন ছিল মাদকের চিহ্নিত একজন ডিলার। কথা হয় তার স্ত্রীর সঙ্গে। স্বামীকে নির্দোষ দাবি করে তিনি জানান, আরও কয়েকজন কারবারির নাম।

ওই নারী বলেন, সবার নাম আমি বলে দেবো। আমার স্বামী তো মারাই গেছে; সবচেয়ে বড় দোষী হলো শাহাবুদ্দিন; এ চনপাড়ার বড় ডিলার সে। এছাড়া আরও আছে শমসের, নাজমা এবং নাজমার মেয়ে বাবলি, শাহাবুদ্দি, শাহ আলম, শফিকুল ও তার ভাই কবীর। ছোট ছোট ছেলে পোলাপাইনও মাদক বিক্রি করে এখানে।

চনপাড়া এলাকার তিন দিকে নদী, এক দিকে খাল। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় যোগাযোগবিচ্ছিন্ন চনপাড়ায় এখন লাখখানেক লোকের বাস। সড়কপথে এ এলাকায় যেতে হলে ঢাকার ডেমরা হয়ে বালু নদের ওপর নির্মিত সেতু পার হতে হয়। স্থলপথে এটিই চনপাড়ায় প্রবেশের একমাত্র রাস্তা। ভৌগোলিকভাবে জায়গাটি দুর্গম হওয়ায় এখানে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি বহাল। গত ৪০ বছরে এলাকাটিতে শুধু মাদক ইস্যুতে খুন হয়েছেন কমপক্ষে ২৩ জন।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image