• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ০১ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বিএনপি নির্বাচন হচ্ছে, এবিপি আনন্দের প্রতিবেদন


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৪১ পিএম
খালেদা
বামে বেগম খালেদা জিয়া, ডানে শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েগত ১৭ নভেম্বর এবিপি আনন্দ হিন্দি ভাষী লোকদের জন্য প্রতিবেদন লেখে। যেখানে তারা বলছে বিএনপি আওয়ামী লীগের বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ভুলে ভর্তি এই প্রতিবেদন ভারতীয় মিডিয়া হিন্দি ভাষী জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। অবিনীশ মিশ্র রচিত ওই প্রতিবেদন পুরোটা তুলে ধরা হলো। 

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি নতুন সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দেশবাসীর উদ্দেশে আউয়াল বলেন, এটাই নির্বাচনের উপযুক্ত সময়। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে। এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল একতরফাভাবে জয়লাভ করেছিল।

এবারও বাংলাদেশে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও খালেদা জিয়ার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মধ্যে। তবে ভারত, আমেরিকা, চীন ও পাকিস্তানের জন্যও এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংসদের কাঠামো কেমন?

১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে নিজস্ব সংবিধান তৈরি করে। এরপর এখানে সংসদীয় ব্যবস্থা কার্যকর হয়। বাংলাদেশের সংসদকে বলা হয় 'জাতীয় সংসদ' বা জাতির ঘর।


সরকারের মতে, এর নতুন ভবনটি ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সালে সম্পন্ন হয় এবং এটি ২০০ একর জমির উপর নির্মিত। বাংলাদেশে সংসদের ৩৫০টি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসন রয়েছে।

সংসদে ক্ষমতাসীন দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হন এবং নির্বাহী প্রধান হন। শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ক্ষমতায় রয়েছে।

বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন: সমস্যা কী?

গত বছর থেকে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দলগুলো। খালেদা জিয়ার দল প্রতিনিয়ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের নির্বাচনে কারচুপি করে জয়ী হওয়ার অভিযোগ করে আসছে।

জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার দল ক্ষমতায় আসার জন্য ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে। তাই এবার নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে হবে। তবে জিয়ার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে হাসিনার দল।

জিয়ার দলের মতে, শেখ হাসিনা তার সরকারকে বাঁচাতে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালান। এই দমন-পীড়নে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার মানুষ মারা গেছে, হাজার হাজার নিরীহ কারাগারের আড়ালে।

বাংলাদেশে স্বৈরাচারের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্যস্ফীতি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি থেকে মুক্তি পেতে আইএমএফ থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল হাসিনা সরকার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ২৩৮ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবনতির পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধই প্রধান কারণ।

বাংলাদেশে এক বছর ধরে সহিংসতা চলছে। ক্ষমতাসীন দল সহিংসতার জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করলেও তা বন্ধ করতে না পারা সরকারের অযোগ্যতাও প্রকাশ করে।

নির্বাচনে দুর্নীতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিরোধী দল বিএনপি ক্রমাগত শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতির কারণে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৯০০ মিলিয়ন ডলার লোকসান করেছে।

ভারত, চীন ও পাকিস্তানের জন্য নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ কেন?


৫ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের নির্বাচন ভারত, পাকিস্তান ও চীনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কেন, আসুন বিস্তারিতভাবে জেনে নিন...

বিএনপি জিতলে ভারতের ঝামেলা বাড়বে

বাংলাদেশ একসময় ভারতের অংশ ছিল, কিন্তু স্বাধীনতার সময় তা পাকিস্তানের অংশ হয়ে যায়। ১৯৭১ সালে, এর পৃথকীকরণের দাবি ওঠে, তারপরে আন্দোলন হয়েছিল।

বাংলাদেশকে আলাদা করতে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ভারতই প্রথম বাংলাদেশকে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

গঠনের পর থেকেই ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। উভয় দেশ এখনও অনেক ক্ষেত্রে একে অপরের অংশীদারের ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা, ডিজেল ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত।

ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ভারতের ৪০০০ কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে। অনুপ্রবেশ এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারতের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, তবে এখানে সরকার পরিবর্তন হলে ভারতকে অনেক ফ্রন্টে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। খালেদা জিয়ার রাজনীতিকে সমর্থন দিয়েছে পাকিস্তান।

২০১৮ সালে, যখন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন, তখন তার ঘনিষ্ঠরা ভারতের সাথে যোগাযোগ করেন। তবে ভারত সরকার তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপও ভারতের জন্য ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়নি

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফিরলে পাকিস্তানের সামনের পথ সহজ হবে না। ১৯৭১ সালের পর খালেদা জিয়া সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা হলেও হাসিনা সরকারের আগমনে তা ব্যর্থ হয়।

হাসিনা সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পাকিস্তান বহুবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি। ২০২০ সালে, পাকিস্তান বাংলাদেশীদের জন্য ভিসার নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তন করেছে।

খালেদা জিয়ার দল থেকে পাকিস্তানের আশা আছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে দুই দেশই আবার অনেক ফ্রন্টে অংশীদার হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তুলা, কাপড়, জুতা ও প্লাস্টিক পণ্য।

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন চীনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বিপুল সংখ্যক চীনা অভিবাসীর বসবাস। চীনও বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্রমাগত বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ২০১৬ সালে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ২৬টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

গবেষণা সংস্থা ওআরএফ-এর মতে, এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন এবং তাদের পারস্পরিক বাণিজ্যের মূল্য ১০ বিলিয়ন ডলার। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে বড় ধরনের অস্থিরতা হলে চীনের ক্ষতি হতে পারে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / এসডি

আরো পড়ুন

banner image
banner image