• ঢাকা
  • শনিবার, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

তরুণ সমাজের জন্য মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা নেই : জি এম কাদের


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১০:০৮ পিএম
তরুণ সমাজের জন্য, মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা নেই, জি এম কাদের
বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, 'তরুণ সমাজের জন্য মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা নেই। তাই বেশিরভাগ তরুণদের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর যারা দেশে থাকছে তারা কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। হতাশা থেকে তরুণ সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। 

বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে 'জাতীয় ছাত্র সমাজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, 'দেশের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে তরুণ সমাজের মেধা ও কর্মশক্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর তিন ভাগের দুই ভাগই তরুণ। এই তরুণদের ৪০ শতাংশ অলস জীবন যাপন করছে। তাদের শিক্ষা নেই, প্রশিক্ষণ নেই। বেকার এই তরুণরা সমাজের কোনো কাজেই আসছে না। বিশাল এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে কিভাবে কর্মক্ষম করে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানো যায় এটাই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।'

তিনি বলেন, 'তরুণরা সম্পদ না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে মাদকাসক্ত তরুণ সমাজ। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক না হয়ে তরুণরা অনেক ক্ষেত্রেই বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নিম্নমানের শিক্ষা, শিক্ষা শেষে কাজের অভাব আর চরম অনিশ্চয়তার কারণে প্রতি বছর দেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে চলে যাচ্ছে। তারা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেও, শিক্ষা জীবন শেষ করে আর দেশে ফিরছে না। এতে মেধাবী সন্তানদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। এর বিরূপ প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির শিকার হবে বাংলাদেশ।'

তিনি আরও বলেন, '২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন ৫২ হাজার ৭৯৯ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গেছেন ৮ হাজার ৫২৪ জন, যুক্তরাজ্য গেছেন ৬ হাজার ৫৮৬ জন, কানাডায় গেছেন ৫ হাজার ৮৩৫ জন, মালয়েশিয়ায় গেছেন ৫ হাজার ৭১৪ জন, জার্মানিতে ৫ হাজার ৪৬ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৪ হাজার ৯৮৭ জন, জাপানে ২ হাজার ৮০২ জন এবং ভারতে ২ হাজার ৬০৬ জন।

দেশের চিকিৎসা সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, 'সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। যাদের টাকা আছে তাদের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চিকিৎসা আছে। আর যাদের টাকা নেই তাদের জন্য চিকিৎসার নামে কিছুই নেই। অথচ চিকিৎসা সেবা আধুনিকায়নে বছরে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অথচ চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সেবার মান কিছুটা উন্নত করা গেলে দেশের কয়েকশো কোটি টাকা দেশে রাখা সম্ভব হবে। সরকার কেন বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না আমরা বুঝতে পারি না।'

তিনি আরও বলেন, 'গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত 'পিএইচএ গ্লোবাল সামিট-২০২৪' এর সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, প্রতিবছর চিকিৎসার জন্য দেশ থেকে পাঁচশ কোটি ডলার (৫ বিলিয়ন) বিদেশে চলে যাচ্ছে। যা প্রতি বছর বেড়েই চলছে। প্রতি বছর প্রবাসী রেমিট্যান্স আয় ২৩ বিলিয়ন। প্রতি ডলার ১১০ টাকা হারে বিদেশে চলে যাচ্ছে প্রতিবছর ৫৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্যে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর ৭ লাখের বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, বিদেশে যাওয়া রোগীর সংখ্যা ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে যাওয়া ডলারের হিসাব আরও বেশি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কথা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, 'গণমানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল নির্মাণ করেছিলেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, ঔষধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি দিয়েছিলেন প্রতিটি হাসপাতালে। ঔষধ তৈরিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে ঔষধনীতি করেছেন। তিনি গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তৎকালীন চিকিৎসা পেশায় জড়িত কিছু কায়েমি স্বার্থবাদী মানুষের জন্য বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। আমরা চাই, প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক। প্রতিটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি দেয়া হোক। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি। তবেই দেশের মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত হবে। এতে অন্তত ৫ শো কোটি ডলার বা তার চেয়ে বেশি বিদেশি অর্থ খরচ থেকে দেশ রক্ষা পাবে।'

জাতীয় ছাত্র সমাজ সভাপতি মো. আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব), রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, জহিরুল আলম রুবেল, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান খলিল, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান খান, শফিউল্লাহ শফি, জসিম উদ্দিন ভূইয়া, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আবদুল হামিদ ভাসানী, বেলাল হোসেন, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য নির্মল দাস, কাজী আবুল খায়ের, সুলতান মাহমুদ, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, এলাহান উদ্দিন, এমএ সোবহান, মাহমুদ আলম, সমরেশ মন্ডল মানিক, মীর সামসুল আলম লিপটন প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image