• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২০ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় প্রস্তুত আনসার গার্ড


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২০ মে, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:২৬ এএম
আনসার ব্যাটালিয়নসহ ৪২টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে
আনসার গার্ড

নিউজ ডেস্ক:  ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব মিশনে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন (এজিবি) সদস্যদের নিতে পরামর্শ দিয়েছে। সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি না পেলেও বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এ বিশেষ ইউনিট।

জানতে চাইলে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহাপরিচালক (অপারেশন্স) এ কে এম জিয়াউল আলম সমকালকে বলেন, ‘আমরা এখনও চিঠি পাইনি। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তার জন্য এজিবি সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কূটনীতিকরা যেভাবে ভালো মনে করবেন, সেভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তবে এ সেবা অবশ্যই অর্থ পরিশোধ করে নিতে হবে। অর্থ বাহিনী নয়, সরকার নির্ধারণ করবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে আনসারের একটি গার্ড ব্যাটালিয়ন, দুটি নারী আনসার ব্যাটালিয়নসহ মোট ৪২টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৬টি ব্যাটালিয়নের ৬ হাজার ২৪৪ সদস্য এককভাবে ৬০টি ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে আরও ১৮৬টি ক্যাম্পে দুর্গম এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ‘অপারেশন উত্তরণে’ কাজ করছে। তাদের মধ্যে বিশেষ ইউনিট এজিবির সদস্য ৩ হাজারের মতো। তাদের বেশিরভাগ তুরস্ক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর মধ্যে স্নাইপার সদস্যও আছেন।

কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় দুটি নারী আনসার ব্যাটালিয়নে ৮৩২ সদস্য রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকার সব মিশনকে এজিবি সদস্যদের সেবা নিতে হলে জনপ্রতি মাসিক ৩০০ ডলার পরিশোধ, বাহিনীর গাড়ি ব্যবহার করলে প্রতি গাড়ির জন্য আরও ১ হাজার ডলার এবং জ্বালানির খরচ সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে দিতে হবে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সূত্র জানায়, এজিবি সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাহিদা অনুযায়ী দীর্ঘ ছয় বছর দূতাবাস ছাড়াও আইসিডিডিআর,বির নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন তাঁরা। বাহিনীর সদস্যরা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাবে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। এজিবির ৪২৫ সদস্য ঢাকায় ক্যাম্পে অবস্থান করেন। জরুরি মুহূর্তে তাঁদের নামানো হয়।

কর্মকর্তারা জানান, এজিবি সদস্যদের তিন ধরনের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এর মধ্যে দুটি দেশে ও একটি বিদেশে। দেশে গহিন জঙ্গলে বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত শর্ট রেঞ্চ প্যাট্রলিং (এসআরপি) ও লং রেঞ্চ প্যাট্রলিং (এলআরপি) করেন। আভিযানিক কার্যক্রমেও নিয়মিত অংশ নেন। অন্যদিকে ব্যাটালিয়ন আনসাররা সচিবালয়, ডিজিএফআইসহ সরকারি দপ্তরে প্রেষণে কর্মরত থাকেন। এর পাশাপাশি সারাদেশে সাধারণ আনসার ব্যাটালিয়নের ৫৪ হাজার সদস্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া বর্তমানে ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটে ২ হাজার ৪০০ সাধারণ সদস্য কাজ করছেন।

২০১৬ সালে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতদের ঢাকায় চলাফেরার ক্ষেত্রে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা সুবিধা দেয় সরকার। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সে সুবিধা শিথিল করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কোনো দূতাবাস আনসার সদস্যদের মাধ্যমে এসকর্ট সুবিধা রাখতে চাইলে বা বাড়তি সুবিধা নিতে চাইলে লিখিতভাবে জানাতে হবে। পরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিগগির সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা ঢাকার সব বিদেশি মিশনকে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিশ্বের কোনো দেশেই বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রদূতকে বাড়তি নিরাপত্তা ও চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য সুবিধা দেওয়া হয় না। বাংলাদেশ বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

হলি আর্টিসান হামলার পর নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় তারা আনসার বাহিনীর এজিবি সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তার বৈশিষ্ট্য দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য এজিবি নিয়োগ দেওয়ার কথাও হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার তাঁদের নিরাপত্তায় সরকারের পক্ষ থেকে এজিবি নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image