ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকআদানি থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান বাংলাদেশের

আদানি থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান বাংলাদেশের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  ভারতের আদানি পাওয়ারকে তাদের ১৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

তিনি জানান, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আদানি বাংলাদেশে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। শীতের মৌসুমে কম চাহিদা ও অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাক্ষরিত ২৫ বছরের চুক্তির অধীনে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির ২ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নিয়ে গঠিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত সম্পূর্ণ বিদ্যুৎই বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়।

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলার কারণে বাংলাদেশের বিল পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় আদানি ৩১ অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে আনে। এর ফলে ১ নভেম্বর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৪২% সক্ষমতায় পরিচালিত হতে থাকে। পরবর্তীতে বাংলাদেশও আদানিকে অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বলেছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, বকেয়া পরিশোধের জন্য তারা প্রতি মাসে আদানিকে ৮৫ মিলিয়ন ডলার করে দিচ্ছে এবং এখন কোম্পানিটিকে দুই ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ পুনরায় সরবরাহের জন্য বলেছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, সাম্প্রতিক চাহিদা অনুসারে তারা দ্বিতীয় ইউনিট চালুর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু অনেক বেশি কম্পনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, সোমবার ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে গিয়ে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা প্রতি মাসে ৮৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করছি। আরও বেশি পরিশোধের চেষ্টা চলছে এবং বকেয়া কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এখন আদানির সঙ্গে কোনো বড় সমস্যা নেই। এ বিষয়ে আদানির একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

বাংলাদেশের আদালত আদানির সঙ্গে করা চুক্তি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর জন্য একটি একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পর্যালোচনার ফলাফল চলতি মাসেই প্রকাশ পেতে পারে। এর উপর ভিত্তি করে চুক্তি পুনঃআলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

গত বছর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আদানিকে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ করেছিল। অভিযোগটি ছিল যে, ঝাড়খণ্ড প্ল্যান্ট ভারতীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া কর সুবিধা বাংলাদেশকে না দেওয়ায় চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। রয়টার্স গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট নথির উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছিল।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তখন জানায়, তারা চুক্তিটি পর্যালোচনা করছে। তবে, আদানির এক মুখপাত্র সে সময় বলেন, তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে করা চুক্তির সব শর্ত মেনে চলেছে এবং তাদের কাছে চুক্তি পর্যালোচনার কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত আসেনি।

এদিকে, দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য নিরসন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি বিপিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম।

গত নভেম্বরে, মার্কিন প্রসিকিউটররা আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানি ও কোম্পানিটির আরও সাতজন নির্বাহীর বিরুদ্ধে ভারতে ২৬৫ মিলিয়ন ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তবে, আদানি গ্রুপ এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে স্বাক্ষরিত প্রধান প্রধান জ্বালানি চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular