ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeকৃষিঝিনাইগাতীতে সরিষার বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি

ঝিনাইগাতীতে সরিষার বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে কিছুদিন আগেও যেখানে বাতাসে দুলছিল হলুদ ফুল। ফুল ফুলে মধু আহরণে ভিড় ছিল মৌমাছিদের। বর্তমানে সেই ফসলের মাঠে এখন চলছে সরিষা মাড়াইয়ের ধুম। মাঠজুড়ে শুকনা গাছ থেকে সরিষার দানা বের করছেন কৃষকরা।

প্রান্তিক চাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনকুলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে বলে। চাহিদা অনুযায়ী ফলনে খুশি সরিষাচাষিরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় এক হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর আবাদ হয়েছে এক হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯০ হেক্টর বেশি।

কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরকারিভাবে বিনামূল্যে সার, বীজসহ পর্যাপ্ত সহযোগিতার পাশাপাশি আমন ও বোরো ফসলের মাঝের সময়ে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ লাভজনক হওয়ায় এর আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া সরিষা আবাদে সেচ ও সার খরচ কম হওয়ায় এর আবাদও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তারা।

বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আবু হারেজ বলেন, ‘এবারের বন্যায় আমার চাষ করা আমন ধান নষ্ট হয়েছিল। পরে কৃষিপ্রণোদনা হিসেবে কৃষি অফিস থেকে বিনা মূল্যে সার, বীজ দেওয়ায় উৎসাহিত হয়ে সরিষষার চাষ করেছিলাম। আমি সরিষা কাটাই-মাড়াই শেষ করেছি। ফলন ভালো পেয়েছি এবং বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি।’

বন্দভাটপাড়া গ্রামের কৃষক মো. মাসুদ মিয়া বলেন, ‘আমি ৪০ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষ করেছিলাম। এতে খরচ হয়েছিল মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সরিষা কাটাই-মাড়াই শেষ করে বাজারে ২২ হাজার টাকার সরিষা বিক্রি করেছি। নিজে তেল খাওয়ার জন্যে আর ২-৩ মণ সরিষা রেখে দিয়েছি। আগামীতে আরও বাড়তি জমিতে সরিষা চাষ করব ইনশাল্লাহ।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, এ উপজেলায় প্রায় দশ হাজার কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে এক কেজি করে সরিষা বীজ ও ২০ কেজি করে রাসায়নিক সার দেওয়া হয়। এ ছাড়া সরিষা চাষের পদ্ধতি বিষয়ে চাষিদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ধানের তুলনায় সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগামী বছর আরও বেশি জমিতে সরিষা চাষে ঝুঁকবে এবং চাষিরা অনেকটা বিনা খরচে লাভের মুখ দেখছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular