ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডশ্রেণিকক্ষকে শয়নকক্ষ বানালেন উপাধ্যক্ষ

শ্রেণিকক্ষকে শয়নকক্ষ বানালেন উপাধ্যক্ষ

শ্রেণিকক্ষের আসবাব সরিয়ে নিজের শয়নকক্ষ বানিয়ে প্রায় দু’বছর ধরে বসবাস করছেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আতাউল হক খান চৌধুরী।

রোববার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩১০১ নম্বর শ্রেণিকক্ষে বসবাসের জন্য রাখা হয়েছে বিছানা, এসি, ফ্রিজ, টিভি, আলনা, চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার ও জুতা রাখার তাক ইত্যাদি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজটির এক কর্মচারী বলেন, ‘স্যার (উপাধ্যক্ষ আতাউল হক) এখানে ২ বছরের বেশি সময় ধরে রয়েছেন। বাড়ি ভাড়া পেলেও এখানেই থাকেন। গত কয়েকদিন ধরে ছুটিতে বাড়িতে আছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজটির এক শিক্ষক বলেন, ‘উপাধ্যক্ষ আতাউল হক দুর্নীতিতে লিপ্ত। কলেজের বিভিন্ন খাতের টাকা এদিক-সেদিক করেন। এর আগে যে কলেজে ছিলেন, সেখানেও দুদকের মামলা আছে।’

সমকালের অনুসন্ধানে জানা যায়, উপাধ্যক্ষ আতাউল হক এর আগে ফরিদপুরের রাজবাড়ীর পাংশা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে ২৯ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের (দুদক) সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট রাজবাড়ী বিশেষ জজ আদালতে মামলাটি করেন।

আতাউল হক ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজবাড়ীর পাংশা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে বদলি করা হয়। বদলি হয়ে এসে প্রথম দিকে তিনি সরকারি কলেজের ডরমেটরিতে থাকেন। পরে কলেজের ৩১০১ শ্রেণিকক্ষ দখল করে দু’বছর ধরে সেখানেই রয়েছেন। অন্যদিকে সরকারি বিধি মোতাবেক নিয়মিত বাড়ি ভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ নিচ্ছেন আতাউল হক।

তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চৌধুরী বাড়ি মহল্লার বাসিন্দা। বর্তমানে ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর ধানমন্ডিতে রয়েছেন আতাউল হক।

শ্রেণিকক্ষে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপাধ্যক্ষ আতাউল হক বলেন, ‘এটা আমি ঠিক করি নাই। আমি আর সেখানে থাকব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে অধ্যক্ষ স্যার থাকতে বলছেন। তিনি (অধ্যক্ষ) বলেছিলেন- একা মানুষ দূরে কোথাও না থেকে কলেজে থাকেন। এর আগেও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকসহ অনেক শিক্ষক ছিলেন এখানে।’

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি কোনো অনুমতি দেয়নি। আমি বিষয়টা আপনার কাছ থেকে অবগত হলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular