ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিক্ষাপ্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের মহাসমাবেশ ৩০ আগস্ট

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের মহাসমাবেশ ৩০ আগস্ট

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আবারও আন্দোলনের ডাক দিলেন। ছয়টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর আহ্বানে আগামী ৩০ আগস্ট, শনিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি—এই তিন দফা দাবিকে সামনে রেখে মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

বৈষম্যের অভিযোগ: বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে (শুরুর বেতন ১৬ হাজার টাকা) ভোগ করছেন। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে (শুরুর বেতন ১১ হাজার টাকা) আছেন। ফলে চাকরির এক দশক পর ইনক্রিমেন্টসহ দুই পদের বেতন ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সহকারী শিক্ষকরা এটিকে চরম বৈষম্য হিসেবে দেখছেন।

তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেডে তেমন পার্থক্য ছিল না, কিন্তু এখন প্রধান শিক্ষকরা সহকারীদের তিন ধাপ ওপরে অবস্থান করছেন। এমনকি অনেক প্রধান শিক্ষকও চান, তাদের ১০ম গ্রেডের প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সহকারীদের ১১তম গ্রেডও ঘোষণা হোক।

শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য:

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ সমকালকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে ১১তম গ্রেডের দাবি জানাচ্ছি। সরকার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সর্বশেষ আন্দোলনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় পে কমিশনে পাঠিয়েছে। কিন্তু আমরা এটিকে সময়ক্ষেপণ মনে করি। যদি ৩০ আগস্টের মধ্যে দাবি পূরণ না হয়, শহীদ মিনারের মহাসমাবেশ থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩ লাখ সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর গ্রেড থেকে বঞ্চিত, যা অর্থমন্ত্রণালয়ের ভুল ব্যাখ্যার কারণে হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণে সহকারীদের শতভাগ পদোন্নতি চাওয়া হচ্ছে।

দাবি আদায়ে সহকারী শিক্ষকরা এর আগে ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করেন। ৫ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি দিয়ে শুরু করে, পরে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিও পালন করেন। সর্বশেষ ২৯ মে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন তারা।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকেরা ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, আর সহকারীরা আছেন ১৩তম গ্রেডে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular