নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি কেন্দ্রের দ্বিতীয় ভেন্যুতে ভুল সেটে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ভেন্যুতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭৬০ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ওইদিন তিন নম্বর সেটে পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের এক নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রের প্রধান ভেন্যুতে সঠিক সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঘটনাটি বুধবার জানাজানি হলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্র সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকীকে শোকজ করে। তবে এখনো তাঁকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি না দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শেষে অন্য বিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্নপত্র নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন ভিন্ন সেটে পরীক্ষা দিয়েছেন।
পরীক্ষার্থী মিল্লাত হোসেন ও সৌরভ হোসেন বলে, “বাসায় গিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষণ করার সময় বুঝতে পারি, আমরা অন্য সেটে পরীক্ষা দিয়েছি। এরপর থেকেই আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”
তবে এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকী। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবীর উদ্দিন আহমেদ ঘটনাটিকে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে সেটে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে, সেই সেট অনুযায়ীই খাতা মূল্যায়ন করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।” তবে পরীক্ষার খাতা অন্য কেন্দ্রের খাতার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় সেগুলো আলাদা করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকী। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে একটি ফ্লোরের সিসিটিভি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গেলে অন্য এক শিক্ষক প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন।
কেন্দ্র সচিব জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের বস্তা খোলার দায়িত্ব তাঁরই ছিল। পরীক্ষার আগে মোবাইল ফোনে তিন নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা এসেছিল। তিনি সেটি দেখে বস্তা আলাদা করলেও পরে ভুলক্রমে এক নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র খুলে বিতরণ করা হয়।
প্রশ্নপত্র বিতরণকারী শিক্ষক মেছের আহমেদ বলেন, “দুটি বস্তা পাশাপাশি থাকায় ভুল করে এক নম্বর সেটের বস্তা খুলে ফেলি। তখন কেন্দ্র সচিব অন্য কক্ষে ছিলেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা আগে অবগত ছিলেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকানিউজ/নাজ/২৪




