ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশ৩৫ হাজার মুক্তায় সাজানো দুর্গাপ্রতিমা, সাতক্ষীরার বুড়িয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়

৩৫ হাজার মুক্তায় সাজানো দুর্গাপ্রতিমা, সাতক্ষীরার বুড়িয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়

সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন, লেজার ও রঙিন আলোকসজ্জায় ফুটে উঠবে প্রতিমার সৌন্দর্য

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : মাটির প্রতিমাজুড়ে ৩৫ হাজার মুক্তার নান্দনিক কারুকাজ। সঙ্গে লেজার লাইট ও নানা রঙের আলোকসজ্জা। সব মিলিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমায় তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য। এমন আয়োজন ঘিরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।

আয়োজকেরা জানান, প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হচ্ছে মুক্তাখচিত প্রতিমা। ইতিমধ্যে দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখতে আসতে শুরু করেছেন। পূজার পাঁচ দিন বিশেষ আলোকসজ্জার মাধ্যমে প্রতিমার সৌন্দর্য তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।

মাটির প্রতিমায় প্রথমে রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। এরপর সূক্ষ্ম কারুকাজে বসানো হয়েছে মুক্তা। ১৩টি প্রতিমার বিভিন্ন অংশে প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা ব্যবহার করা হয়েছে। আলো পড়লে প্রতিমার গায়ে ফুটে ওঠে ঝিকিমিকি আভা। প্রায় সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী এই পূজামণ্ডপে ব্যতিক্রমী আয়োজনটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করছে।

প্রতিমাশিল্পী নিউটন রায় বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে চারজন শিল্পী প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। মুক্তা বসানোর সূক্ষ্ম কাজ করতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লেগেছে। প্রতিবছর নতুন কিছু করার চেষ্টা থেকে এবার ভারতীয় সিনেমায় দেখা কয়েকটি মূর্তির নকশা ও নিজেদের পরিকল্পনার সমন্বয়ে প্রতিমার নকশা করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলেও এখন প্যান্ডেল সাজানোর কাজ চলছে।

বুড়িয়া পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সদস্য ও স্কুলশিক্ষক উত্তম কুমার বলেন, ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে এবার দেশবাসীকে মুক্তাখচিত দুর্গাপ্রতিমা উপহার দিতে চান তাঁরা। গত ৫ আগস্ট থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় ৩৫ হাজার মুক্তা দিয়ে প্রতিমা সাজাতে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে।

উত্তম কুমার আরও বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আড়পাঙ্গাসিয়া ও বড়কুপোট এলাকায় প্রতিবছর ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরি করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বুড়িয়াতেও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা থেকে মুক্তা দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজার পাঁচ দিন লেজার, মার্কারি ও হ্যালোজেন বাতির মাধ্যমে প্রতিমার সৌন্দর্য তুলে ধরা হবে। তিনি দেশবাসীকে বুড়িয়া পূজামণ্ডপে এসে এই আয়োজন উপভোগ করার আহ্বান জানান।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রায় ৭০ বছর আগে নারায়ণ সরকার ও দীপঙ্কর সরকারসহ কয়েকজন ধান ব্যবসায়ী কপোতাক্ষ নদের তীরে বুড়িয়া ওয়ার্ল্ড ভিশন স্কুলের বারান্দায় মাটির দুর্গাপ্রতিমা স্থাপন করে পূজা শুরু করেন। বর্তমানে মন্দিরের নিজস্ব জমি নেই। স্থানীয়ভাবে চাঁদা সংগ্রহ করে পূজার আয়োজন করা হয়। এবার সরকারিভাবে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুড়িয়া পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাবেক সভাপতি ও স্কুলশিক্ষক ভবেশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, পূজামণ্ডপটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর মণ্ডল বলেন, প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের আগ্রহে তাঁরা আনন্দিত। পূজার পাঁচ দিন সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পূজা উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় যাত্রাপালারও আয়োজন করা হয়েছে।

স্থানীয় স্কুলছাত্রী বন্যা মণ্ডল বলে, মুক্তা দিয়ে এত সুন্দর প্রতিমা তৈরি করা যায়, তা আগে তার জানা ছিল না। বাড়ির পাশে তৈরি এই প্রতিমা দেখতে তার খুব ভালো লাগছে। সহপাঠীদের নিয়ে সে প্রতিমার সৌন্দর্য উপভোগ করেছে। বিজয়া দশমীর দিন মণ্ডপে বড় আকারে আড়ং বসবে জানিয়ে বন্যা বলে, এবার সেখানে অন্য বছরের তুলনায় বেশি আনন্দ হবে বলে তার প্রত্যাশা।

দর্শনার্থী অলকা রানী বলেন, মুক্তা দিয়ে তৈরি এমন প্রতিমা এবারই প্রথম দেখেছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছেন। পূজার দিনগুলোতে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, জেলায় এবার ৬১০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মুক্তার কারুকাজ, বিশেষ আলোকসজ্জা ও সাত দশকের ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে বুড়িয়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ এবার দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজন ধর্মীয় উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তাও ছড়িয়ে দেবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular