কুনমিং, পেনাং ও ব্যাংককের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা
নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী নভেম্বরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরা সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নতুন এই বিমানবন্দরের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরাসরি কক্সবাজারে আসতে পারবেন। এতে পর্যটন খাতের বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে কুনমিংয়ের দূরত্ব তুলনামূলক কম। ইউনান একটি স্থলবেষ্টিত প্রদেশ হওয়ায় দুই গন্তব্যের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনস ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের জন্য সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হতে পারে।
এ ছাড়া এয়ার-এশিয়া পেনাংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানান তিনি। ফ্লাইদুবাইয়ের কক্সবাজার-ব্যাংকক-দুবাই রুটে ফ্লাইট চালুর আগ্রহকেও স্বাগত জানান মন্ত্রী। নতুন ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, রিয়াদে হামলার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১০টি ফ্লাইটের কারণে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি যাত্রীর চলাচলে সমস্যা হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। সবার সহযোগিতায় এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




