ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআলোকিত মুখকিশোরগঞ্জের কাজী আবদুল বারী: আকন্ঠ তাঁর বিপ্লব পিপাসা

কিশোরগঞ্জের কাজী আবদুল বারী: আকন্ঠ তাঁর বিপ্লব পিপাসা

বৃটিশ বিরোধী অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের পথরেখা ধরেই স্বাদেশিকতা ও মানবমুক্তির অভিমুখীন পথ পাড়ি দিয়েছেন কাজী আবদুল বারী। জন্মেছিলেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার কাজীপাড়ায়।

স্কুলছাত্ররূপে ভাষা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন তিনি। ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ছিলেন সক্রিয় এক তরুণ কর্মী। নির্বাচনের পরপরই গ্রেফতার হন তিনি। বারংবার গ্রেফতার হওয়ার কারণে তাঁর পড়াশোনা ব্যাহত হয় নানাভাবে।

ছাত্রাবস্থায় দু’বার আনন্দমোহন কলেজে ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র লীগের সভাপতিও ছিলেন তিনি। পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীন জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি র প্রশ্নে ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ ভেঙে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠিত হলে তিনি যোগ দেন তাতে।

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারী হলে পূর্ব বাংলায় যে গুটিকয়েক সাহসী তরুণ প্রতিবাদী আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন,তাঁদের অন্যতম কাজী বারী। এ কারণে সামরিক ট্রাইবুনালে বিচার হয় তাঁর। ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং সেই সাথে বেত্রদন্ড দেয়া হয় তাঁকে। বেত্রদন্ডের কারণে পুরোপুরি বধির হয়ে পড়েন তিনি। জেল থেকে মুক্তি পান ১৯৬৩ সালে।

ছোটোখাটো চেহারার এ মানুষটি ছিলেন অসাধারণ এক বক্তা। পুরোনো ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ন্যাপের ভিত্তি ও সংগঠন গড়ে তোলার কাজে নিষ্ঠার সাথে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।

১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় কিশোরগঞ্জের ন্যাপ সভাপতি কাজী বারীকে ঢাকা থেকে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের নয়মাসে অনন্য এক সংগঠকের ভুমিকা রাখেন তিনি।

সারা জীবন ধরেই মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং মানবমুক্তির সাধনায় ব্রতী ছিলেন তিনি।

১৯৮৩ সালের ২৯শে ডিসেম্বর প্রয়াত হন কাজী বারী। তাঁর জানাযায় অংশ নিয়েছিলেন ১০ হাজার মানুষ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular