ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধগাজীপুরের গাছা খাল এবং লবণদহ নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজ শিগগিরই

গাজীপুরের গাছা খাল এবং লবণদহ নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজ শিগগিরই

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গাজীপুরের গাছা খাল এবং লবণদহ নদী পুনরুদ্ধার, দখল ও দূষণমুক্তকরণের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। তিনি বলেন, এ দুটি প্রকল্প আমরা ইতিমধ্যেই অনুমোদন করে দিয়েছি এবং এ বর্ষার পরপরই গাছা খাল এবং লবণদহ নদী দখল ও দূষণমুক্ত করণসহ পুনরুদ্ধারের কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে লবণদহ নদী দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা ভেংগে দেয়ার জন্য তিনি গাজীপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রকল্প শুরুর আগেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে লবণদহ নদীর সীমানা চিহ্নিত করার জন্যও তিনি জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা প্রদান করেন।

২৪ মে শনিবার  বিকেলে গাজীপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে ‘নদী ও জলাভূমি সিম্পোজিয়াম ২০২৫’শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটাকে সফল করতে হলে কেবল খালে পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনলে হবে না খালটাকে দুর্গন্ধ মুক্তও করতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন,গাছা খাল যারা এখন দূষণ করছেন তাদেরও চূড়ান্ত তালিকা হয়ে গেছে। এখন থেকে যারা দূষণ করছেন তাদের সাথে প্রথমে আমরা আলোচনায় বসব, তারপরে তাদেরকে আমরা সতর্ক করবো এবং এরপরে যদি তারা আমাদের কথা না শুনে, তারা যদি মনে করেন খালটা তাদের প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলার জায়গা সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে চরম কঠিন পদক্ষেপই গ্রহণ করতে হবে বলে উপদেষ্টা জানান। পরিবেশ অধিদপ্তরকে গাছা খাল যারা দূষণ করছে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত ও মৌখিক সতর্ক করার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা। 

গাজীপুরের উল্লেখযোগ্য পুকুরগুলো পুনরুদ্ধার করবার জন্য জেলা প্রশাসককে একটা প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এতে ১৮ টি পুকুরের একটা তালিকা আমরা পেয়েছি। উপদেষ্টা বলেন এতে যেন জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয় সেটা জেলা প্রশাসক দেখবেন। যেগুলো খনন করলে বেশি মানুষের উপকার হবে সেগুলোই আমরা খনন করবো পুনরুদ্ধার করব , 
শিল্পে পানি ব্যবহার নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। শিল্প গুলো চাইলেই বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি বিনা পয়সায় পানি তুলতে পারবে না। প্রাইসিংটা এমনভাবে করা হবে যাতে করে শিল্পের মালিকরা পানি পুনর্ব্যবহার করার দিকে ঝুঁকে পড়ে। বেশি টাকা দিয়ে পানি তুলতে গেলে তো ওটা আর লাভজনক হবে না।
উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন আমরা যারা এখানে আছি আমরা নিজে নিজের জায়গা থেকে যেন পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করে দিই। কোন কাজে তখনই সরকার সফল হবে যখন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকে। পলিথিন শপিং ব্যাগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে উপদেষ্টা গাজীপুরের ডিসিকে নির্দেশ দেন।

ঢাকার চারপাশে ৪টি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে চুক্তি করে দিয়ে যাব যা পরের সরকার এসে করবে। তিনি বলেন আশা করি তুরাগ নদী পুনরুদ্ধার ও দখল এবং দূষণমুক্তকরনের কাজ আমরা শুরু করে দিয়ে যেতে পারবো। বিশ্ব ব্যাংক এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সোলায়মান হায়দার, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের ড.কামরুজ্জামান মিলন, শিক্ষিকা মাহবুবা রহমান, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, কলেজ শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম, নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর প্রভাষক রিফাত হোসাইন,সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক বেনু, ছাত্র প্রতিনিধি নাদিম প্রমুখ গাজীপুরের নদ-নদী,খাল ও জলাভূমি রক্ষায় বিভিন্ন প্রস্তাবনার কথা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা নিউজ/এস 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular