ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডদুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাক চেপে চলাচল

দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাক চেপে চলাচল

সড়কের পাশে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা। আবর্জনার দুর্গন্ধে সড়কটি দিয়ে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। খোলা জায়গায় এসব বর্জ্য ফেলার কারণে বিভিন্ন রাসায়নিক বাতাস ও পানিতে মিশে রোগবালাই ছড়াচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার আবাসিক, বাণিজ্যিক ভবন, হোটেল ও হাসপাতালের বিভিন্ন বর্জ্য পৌরকর্মীরা দুর্গারামপুর-জগন্নাথপুর সেতুর পশ্চিম পাশে রাস্তার পাশে ফেলছে। পৌরসভার ময়লা ফেলার নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায় বাঞ্ছারামপুর-মুরাদনগর-ঢাকা সড়কের পাশে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে আবর্জনা।

সরেজমিন দুর্গারামপুর-জগন্নাথপুর সেতুর পশ্চিম পাশের এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বাঞ্ছারামপুর-ঢাকা সড়কের দক্ষিণ পাশে ময়লার স্তূপ। বাতাসে উটকো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। নাক চেপে ও রুমাল ব্যবহার করে জায়গাটি পার হচ্ছেন পথচারীরা। যে জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে, তার খুব কাছেই উপজেলার মডেল মসজিদ। ময়লার গন্ধে মসজিদে আগত মুসল্লিদের নামাজ পড়তে সমস্যা হচ্ছে। আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটেও লোকজন দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। এসব আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ডোলভাঙ্গা নদীতে পড়ছে। দুর্গন্ধে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের।

পথচারী আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি প্রধান সড়ক। এখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। ময়লার দুর্গন্ধে হাঁটা দূরের কথা, শ্বাস নিতেই কষ্ট হয়। এসব ময়লা ডোলভাঙ্গা নদীতে মিশে পানি দূষিত হচ্ছে। দোকানদার জামাল মিয়া জানান, দোকানে ক্রেতা আসতে চায় না। দুর্গন্ধের কারণে বসে থাকার পরিবেশ নেই। পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুর্ভোগে রয়েছেন ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।

মডেল মসজিদের মুসল্লি মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য, নামাজে দাঁড়ালে দুর্গন্ধে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। নামাজ আদায় করতে গিয়েও কষ্ট হয়।

পৌরসভার অফিস সহকারী ফারুক মিয়া জানান, যে জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে, তার বেশির ভাগই সাবেক মেয়র টিপু মোল্লার। মাঝেমধ্যে দুর্গন্ধ কমাতে আগুন দিয়ে আবর্জনা পুড়িয়ে থাকেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মন জানান, এসব ময়লা থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ-জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব জিনিস বৃষ্টিতে নদীর পানির সঙ্গে মিশে গেলে, সেই পানি ব্যবহারে কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া জাতীয় রোগ এখান থেকে ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি।

পৌরসভার প্রশাসক রবিউল হাসান ভূঁইয়া জানান, একটি স্থায়ী ময়লা ফেলার জায়গা কেনার প্রক্রিয়া চলছে। পৌরসভার নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকার কারণে আগে থেকেই এই জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular