ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশবায়োটেকনোলজিতে যৌথ ডিগ্রি ও গবেষণায় বাউবি-এনআইবির সমঝোতা

বায়োটেকনোলজিতে যৌথ ডিগ্রি ও গবেষণায় বাউবি-এনআইবির সমঝোতা

কৃষি, ওষুধশিল্প ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নতুন সম্ভাবনার আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বায়োটেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা, ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)। এ অংশীদারত্বের আওতায় বায়োটেকনোলজিতে ডিপ্লোমা, এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে সচিব বলেন, এ সমঝোতা দেশের বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। এনআইবির আধুনিক গবেষণাগার ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাউবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে স্কুল অব এগ্রিকালচারের এমএস ও পিএইচডি গবেষকদের, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে।

বিজ্ঞানকে শুধু তাত্ত্বিক পড়াশোনা ও গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বায়োটেকনোলজির ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন ওষুধ, জৈব সার, জলবায়ু-সহনশীল ফসল উদ্ভাবন এবং মৎস্য খাতের উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব। এর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।

এনআইবির বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্দেশে সচিব বলেন, শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাঁদের মূল মনোযোগ গবেষণায় বজায় রাখতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। বাউবির তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থীরা গবেষণায় যুক্ত হলে তাঁরা এনআইবির গবেষণা কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যৌথ ডিগ্রি প্রদান এবং সনদে উভয় প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সচিব। তিনি বলেন, মানসম্মত কাজ ও সুনির্দিষ্ট ফলাফলের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।

গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এ অংশীদারত্বের আওতায় বাউবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা বাড়ানো হবে। সরকার বর্তমানে ‘ন্যাশনাল ইনোভেশন হাব’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে বাউবি ও এনআইবি যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দুই প্রতিষ্ঠানের গবেষণা সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কৃষি, ওষুধশিল্প ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার মতো নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্ভব হবে।

বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, এ চুক্তির আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বায়োটেকনোলজিতে ডিপ্লোমা, এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সমঝোতার আওতায় যৌথ পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন, জিনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিকস ও মলিকুলার বায়োলজিতে যৌথ গবেষণা, গবেষণাগার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি মেধাস্বত্ব ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে এনআইবির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সগীর আহমেদ এবং বাউবির পক্ষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টি এম আহমেদ হোসেন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী ও ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী এবং বাউবির স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ মন্ডলসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular