ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশবিক্রি না হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে দেড় শতাধিক কোরবানির চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা

বিক্রি না হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে দেড় শতাধিক কোরবানির চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা

নাজমুল হোসেন, বিশেষ সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে বিক্রি না হওয়ায় দেড় শতাধিক কোরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। কোরবানির ঈদের পর বিভিন্ন বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা এসব চামড়া দীর্ঘদিন অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেগুলো মাটিচাপা দিতে বাধ্য হয়েছেন একটি মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রামনগর মাদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাদ্রাসার উন্নয়ন তহবিলের জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এ জন্য শ্রমিক নিয়োগ এবং পরিবহন ব্যয়ও করা হয়। কিন্তু সংগ্রহ করা চামড়াগুলো প্রত্যাশিত দামে বিক্রি করা যায়নি। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কোনো পাইকারি ক্রেতাও পাওয়া যায়নি। ফলে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের পর চামড়াগুলো পচে যাওয়ার উপক্রম হলে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চামড়া সংগ্রহের পর যথাযথ সংরক্ষণ, বিপণন ও বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে প্রতিবছরই এ ধরনের সংকট দেখা দেয়। এতে একদিকে যেমন চামড়ার প্রকৃত মূল্য পাওয়া যায় না, অন্যদিকে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, কোরবানির ঈদের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৫০টি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। চামড়া বিক্রির আশায় কয়েক দিন অপেক্ষা করা হলেও কোনো আড়তদার বা পাইকারি ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ফলে চামড়াগুলো সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুর্গন্ধ ছড়ানো ও পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে সেগুলো মাটিচাপা দেওয়া হয়।

রামনগর মাদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন, “মাদ্রাসার তহবিল থেকে টাকা খরচ করে শ্রমিকের মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিক্রির জন্য অনেক চেষ্টা করেও কোনো পাইকার পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। এতে মাদ্রাসার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।”

তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির আয় মাদ্রাসার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাজার সংকটের কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকার কথা। এমন ঘটনা হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকানিউজ/নাজ/24

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular