ঢাকা  বুধবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeব্যবসা/বাণিজ্যবোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা সরকারের

বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা সরকারের

নিউজ ডেস্ক: উড়োজাহাজের সংকট কাটিয়ে বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২৫টি বোয়িং কেনার পাশাপাশি আরও ১০টি এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মন্ত্রী জানান, গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তির অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার অধিকার সংক্রান্ত ধারার আওতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার সম্পূরক চুক্তি হয়েছে। নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৫টি বোয়িং ৭৮৭-১০ (প্রশস্ত বডি) এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স (সংকীর্ণ বডি)। আগের চুক্তির একই দরদামে এগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ নিয়ে মোট ২৫টি বোয়িং কেনার চুক্তি সম্পন্ন হলো। এর মধ্যে ১৫টি প্রশস্ত বডির-২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ও ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০, আর ১০টি সংকীর্ণ বডির বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সালের নভেম্বরে উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য বোয়িংকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

বোয়িংয়ের পাশাপাশি টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তুলতে এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চলছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। এর মধ্যে ৪টি এ৩৫০-৯০০ (প্রশস্ত বডি) এবং ৬টি এ৩২১ নিও (সংকীর্ণ বডি) উড়োজাহাজ রয়েছে।

ক্রয় পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে বিমানের নেটওয়ার্ক ফ্লিট প্ল্যানিং, উড়োজাহাজের সীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, ফ্লাইটপ্রতি সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্রিকোয়েন্সি বিশ্লেষণ করেই প্রশস্ত বডি ও সংকীর্ণ বডি উড়োজাহাজের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনায় প্রশস্ত বডি উড়োজাহাজগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ রুটে চলাচল করবে। অন্যদিকে সংকীর্ণ বডি উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে চলাচলের পাশাপাশি বিমানের পুরোনো ৭৩৭-৮০০ মডেলগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে।’

বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণে মূলত ‘ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস মডেল’ অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, ‘ইথিওপিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেশি এবং বিমানবন্দরে যাত্রী চাহিদাও অনেক বেশি। অথচ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বহরে ১৬৭টি উড়োজাহাজ থাকলেও বাংলাদেশের জাতীয় বিমানসংস্থায় রয়েছে মাত্র ১৯টি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান মোট যাত্রী চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি পরিবহন করতে পারছে। ফলে অবশিষ্ট প্রায় ৮০ শতাংশ বাজার বিদেশি এয়ারলাইনসের দখলে। উড়োজাহাজের স্বল্পতা দূর করতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে এবং এতে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই।’

মেগা অর্থায়ন ও বাজেট প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজ কেনার মূল্য পরিশোধ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে এবং সে অনুযায়ী অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে করা হবে। যা বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হিসাব করেই তৈরি করা হয়েছে। এতে জাতীয় বাজেটের ওপর সরাসরি চাপ পড়বে না।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular