২২ দিনের অভিযানে ১৫০ জেলে আটক, সাড়ে ৪ টন ইলিশ ও ৩৭ লাখ মিটার জাল জব্দ; উৎপাদন বাড়ার আশা মৎস্য কর্মকর্তার
নাজমুল হোসেন : লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে জারি করা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর নদীতে মাছ ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলার ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে। মাছঘাটগুলোতে জাল ও নৌকা মেরামতসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৩ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকি ৭৭ জনকে জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ সময় ১০০টি মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে সাড়ে চার টন ইলিশ, ২০টি নৌকা ও ৩৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল। জব্দ করা ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ ও জেলেরা জানান, ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। ৮ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স কমিটি। এ সময় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে।
এবার রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময়ে ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুত নিষিদ্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রত্যেক জেলেকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়ার কথা। জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জেলে বরাদ্দের চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
মতিরহাট মাছঘাটের জেলে সফিক উল্যা ও মানা মাঝি বাসসকে বলেন, তাঁরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে মাছ ধরতে যাননি। তাঁদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার অভিযান ছিল বেশি কঠোর। প্রশাসনের তৎপরতার কারণে অনেক জেলে নদীতে নামার সাহস করেননি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে তাঁরা জাল ও নৌকা মেরামতের কাজ করছেন। অভিযান শেষে আবার মাছ ধরতে নামবেন। তাঁরা আরও বলেন, এবার ভিজিএফের চালও ঠিকমতো পেয়েছেন।
মজুচৌধুরীরহাট মাছঘাটের জেলে আবুল কালাম ও তোফায়েল আহমদ বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবার নদীতে পুরোদমে মাছ ধরা শুরু হবে। তাঁরা নৌকা ও জাল প্রস্তুত করছেন। মাছ ধরে পরিবারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় চালাতে পারবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।
একই ঘাটের আড়তদার মিন্টু বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে আড়তের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর আশা, নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে এবং মাছঘাটগুলো আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে।
মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আবদুর রহমান বাসসকে বলেন, তাঁরা দিনরাত নদীতে অভিযান চালিয়েছেন। বিভিন্ন বাধার মুখেও অভিযান অব্যাহত ছিল। নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তাঁরা কাজ করেছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেন, গত দুই বছর মাছের উৎপাদন কম ছিল। তবে এবার উৎপাদন বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন। ২২ দিনের অভিযানে ১৫০ জেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবার লক্ষ্মীপুরে মাছের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার মেট্রিক টন বেশি।



