ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeশিক্ষাপায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে করণীয়

পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক

লিগামেন্ট হলো শরীরের জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি হাঁটু, গোড়ালি, কাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে থাকে। বিশেষ করে হাঁটুতে সামনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট, পেছনের ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট, মধ্যবর্তী পার্শ্বীয় লিগামেন্ট ও পার্শ্বীয় লিগামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো ছিঁড়ে গেলে জয়েন্ট দুর্বল ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

লিগামেন্ট ইনজুরির কারণ

লিগামেন্ট ইনজুরির পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে–
◉ খেলাধুলাজনিত আঘাত: ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল বা দৌড়ানোর সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন, লাফ বা মোচড় লাগলে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে।
◉ দুর্ঘটনা: সড়ক দুর্ঘটনা, উচ্চ স্থান থেকে পড়ে যাওয়া বা ভারী আঘাত সরাসরি লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
◉ ভুলভাবে পা ফেলা: অসমতল বা পিচ্ছিল জায়গায় পা পড়লে বা হঠাৎ পা বেঁকে গেলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
◉ অতিরিক্ত শরীরের ওজন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ফলে লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে যায়।
◉ বয়সজনিত পরিবর্তন: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি কমে যায়।
◉ পূর্বের আঘাত: একবার লিগামেন্টে আঘাত লাগলে একই জায়গায় পুনরায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সাধারণ লক্ষণ

◉ হঠাৎ তীব্র ব্যথা ◉ পা ফুলে যাওয়া ◉ হাঁটতে কষ্ট হওয়া ◉ জয়েন্টে অস্থিরতা অনুভূত হওয়া ◉ নড়াচড়ার সময় ‘পপ’ শব্দ হওয়া ◉ পায়ের শক্তি কমে যাওয়া।
গুরুতর লক্ষণ: ◉ হাঁটতে সম্পূর্ণ অক্ষমতা ◉ পা ভাঁজ করতে সমস্যা ◉ অতিরিক্ত ফোলা ও নীলচে দাগ ◉ জয়েন্ট ঢিলা বা আলগা অনুভূতি।

জটিলতা

চিকিৎসা না নিলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন–
◉ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ◉ জয়েন্ট অস্থিতিশীলতা ◉ হাঁটু বা গোড়ালির ক্ষয়জনিত রোগ ◉ পেশির দুর্বলতা ◉ চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা ◉ পুনরায় আঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি।

ইনজুরি নিশ্চিত করা

লিগামেন্ট ইনজুরি নিশ্চিত করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন–
◉ শারীরিক পরীক্ষা: ডাক্তার জয়েন্টের নড়াচড়া, ব্যথা ও স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করেন।
◉ এক্স-রে পরীক্ষা: হাড় ভাঙা বা অন্য কোনো হাড়ের সমস্যা আছে কি না দেখা হয়।
◉ চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রায়ণ: লিগামেন্টের ক্ষতির সঠিক অবস্থা জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।
◉ আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা: কিছু ক্ষেত্রে নরম টিস্যুর ক্ষতি নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়।

ঘরোয়া পরামর্শ 

বিশ্রাম: আঘাতপ্রাপ্ত পা সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
বরফ সেক: প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বরফ ব্যবহার করলে ফোলা ও ব্যথা কমে।
চাপ দেওয়া: ইলাস্টিক কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা চাপ দেওয়া যায়।
উঁচু করে রাখা: পা হৃৎপিণ্ডের চেয়ে উঁচুতে রাখলে ফোলা কমে।
ভারী কাজ: ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম।
খাবার: এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা করতে হবে।
ব্যথার ওষুধ: ব্যথার ওষুধ নিজে থেকে না খাওয়া।

প্রতিরোধের উপায়

◉ খেলাধুলার আগে ভালোভাবে শরীর গরম করা
◉ সঠিক জুতা ব্যবহার করা
◉ নিয়মিত পেশি শক্ত করার ব্যায়াম করা
◉ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
◉ ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এড়িয়ে চলা
◉ পূর্বে আঘাত থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা

পরিশেষে বলা প্রয়োজন, পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া একটি আঘাতজনিত সমস্যা হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। হালকা ইনজুরিতে বিশ্রাম ও প্রাথমিক যত্ন যথেষ্ট হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular