ঢাকা  রবিবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশচট্টগ্রামনতুন ভিসিকে লাল কার্ড, আন্দোলনে অচল চুয়েট

নতুন ভিসিকে লাল কার্ড, আন্দোলনে অচল চুয়েট

নিউজ ডেস্ক : নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এর আগে সকাল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পালা করে পাহারা দেন তারা। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে এবং আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা এ অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে হাতে লাল কার্ড নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় নতুন উপাচার্যকে বয়কটের বার্তা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’ এবং ‘মানি না, মানব না—অনলাইন ভিসি মানি না’ স্লোগানও দেওয়া হয়।

চুয়েটে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের পর ওই রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছেন, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর জরুরি সভায় শিক্ষক সমিতি পূর্ণ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়। জরুরি ও আবাসিক সেবা চালু রাখার কথা জানানো হলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠান। পরে তিনি জানান, দ্রুত চুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করবেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে নয়; বরং অধ্যাপক সায়েমের দায়িত্বকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তৈরি হওয়া আস্থা এবং শুরু হওয়া বিভিন্ন কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এমন অবস্থান তুলে ধরেন।

এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে এবং উপাচার্য নিয়োগ ও অব্যাহতি-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি করেছে। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পৃথক কর্মসূচির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।-

সব মিলিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনে চুয়েটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড কর্মসূচি ও পুনর্বহালের দাবি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন আন্দোলনকারীদের দাবি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular