ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চামড়াশিল্পের উন্নয়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়...

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চামড়াশিল্পের উন্নয়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি: নগর ও শিল্পবর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং চামড়াশিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তি, পরিচালন পদ্ধতি ও শিল্প অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা নিতে ইস্তাম্বুলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ৪ ও ৫ নভেম্বরের এ পরিদর্শনে কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

৪ নভেম্বর ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বর্জ্য দহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গৃহস্থালি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরেন। উপস্থাপনা ও সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির প্রযুক্তি ও পরিচালন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন তিনি।

ইস্তাচ (İSTAÇ) পরিচালিত কেন্দ্রটির দৈনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ৩ হাজার টন। এর স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৫ মেগাওয়াট। বাংলাদেশের নগরগুলোয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও ভাগাড়ের ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা গ্রহণের আগে স্থানীয় বাস্তবতা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা ও পরিবেশগত শর্ত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

একই দিন তুজলায় অবস্থিত ইস্তাম্বুল লেদার অর্গানাইজড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (আইডিওএসবি) পরিদর্শন করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। জোনটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জেলাল কোপুজ, জোনের প্রতিনিধি এবং তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা এর কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক অবদান সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

এ সময় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, অভিন্ন অবকাঠামোর ব্যবহার এবং চামড়া উৎপাদনে কেন্দ্রীয় বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থার ভূমিকা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের চামড়া শিল্পনগরীগুলোর আধুনিকায়ন, পরিবেশগত মান পরিপালন ও উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

পরে জেভাহির লেদার ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডের কারখানা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। সেখানে কাঁচা চামড়া থেকে প্রস্তুত চামড়া তৈরির বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, ট্যানিং ও ফিনিশিং প্রযুক্তির পাশাপাশি জুতা এবং অন্যান্য পণ্যে ব্যবহারের উপযোগী চামড়া উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ধারণা নেন।

৫ নভেম্বর শিলেতে অবস্থিত এনারগ্রম থার্মাল ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। কেন্দ্রটিতে বিপজ্জনক শিল্পবর্জ্য তাপীয় প্রক্রিয়ায় শোধন এবং তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ইস্তাচের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় নির্মাণ, পরিচালনা ও হস্তান্তর বা বিওটি পদ্ধতিতে স্থাপনাটি পরিচালনা করছে এনারগ্রম। কেন্দ্রটির বার্ষিক শিল্পবর্জ্য শোধন সক্ষমতা ৩৩ হাজার টন এবং স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫ দশমিক ৬ মেগাওয়াট।

এসব পরিদর্শনে বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পের আধুনিকায়নে তুরস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র সামনে এসেছে। উপযুক্ত বর্জ্য শোধন ও জ্বালানি পুনরুদ্ধার প্রযুক্তি গ্রহণ করা গেলে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতির পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে সম্পূরক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অন্যদিকে চামড়াশিল্পে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, উৎপাদন পদ্ধতির উন্নয়ন এবং মূল্য সংযোজন বাড়াতে তুরস্কের অভিজ্ঞতা সহায়ক হতে পারে। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, রফতানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ঢাকা নিউজ/এস

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular