নজরুল ইসলাম খায়রুল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ: অবশেষে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের
জঙ্গলবাড়ির কামাল মাস্টারের বাড়িতে অবস্থিত নতুন ঘরে বীর ঈশা খাঁ স্মৃতি পাঠাগারের অস্থায়ী কার্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) থেকে নতুন অস্থায়ী এই কার্যালয়টি এক বছরের জন্য ফ্রি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জমি ও ঘরের মালিক এজ্জাজ হোসেন কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বীর ঈশা খাঁ স্মৃতি পাঠাগারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মীর সাত্তার উদ্দিন ও নব পর্যায়ের পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আমিনুল হক সাদী, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান জামাল দাদ খাঁনের উপস্থিতিতে ঘরের চাবি হস্তান্তর করে দিয়েছি। গতকাল শনিবার ১২ জুলাই ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত ঈশা খাঁ শাহী মসজিদের পশ্চিমে রাস্তার পাশে আমার বাড়ির টিন সেড
ঘরটিতে বীর ঈশা খাঁ স্মৃতি পাঠাগারের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার মৌখিক অনুমোদন দিয়েছি। অনুমোদন দেওয়ার পরেই পাঠাগারের দায়িত্বশীলগণ পাঠাগারের সাইনবোর্ড ও বুক সেলফ এনে সাজানো গুছানোর কাজ শুরু করেছেন। বীর ঈশা খাঁ স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি আমিনুল হক সাদী জানান, ঈশা খাঁ স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর নামে ২০০৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ঈশা খার ১৪ তম অধস্তন পুরুষ দেওয়ান আমিন দাদ খাঁ। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি মারা যাওয়ায় এর কার্যক্রম দীর্ঘ বছর স্থগিত ছিলো। পরবর্তীতে নতুন কমিটিতে পাঠাগার পরিচালনা কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে ঈশা খাঁ স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি নির্বাচিত করেন। আমি নির্বাচিত হওয়ার পরেই প্রথমে পাঠাগারটিকে রেজিস্ট্রেশন করাই। এরই মধ্যে বীর ঈশা খার স্মৃতি বিজড়িত দরবার হলটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর অধিগ্রহণ করে সংস্কার করায় পাঠাগারটির কার্যালয় আমার প্রতিষ্ঠিত মহিনন্দ ইতিহাস
ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারে অস্থায়ী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো। দীর্ঘ দিন চেষ্টা চালিয়ে জঙ্গলবাড়িতে পাঠাগারটিকে পুন:স্থাপন করতে পেরে গর্বিত মনে
করছি। সকলের সহযোগিতায় মহাবীর ঈশা খাঁর স্মৃতিকে ঠিকিয়ে রাখার লক্ষে পাঠাগারটিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় জিনিয়াস আইডিয়েল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবি তন্ময় আলমগীর বলেন, ঈশা খাঁর নামে এই পাঠাগারটি রক্ষায় ইতিহাস অনুসন্ধানী ঈশা খাঁ গবেষক আমিন সাদী ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আজ বীর ঈশা খাঁ স্মৃতি পাঠাগারের অস্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে ঈশা খাঁকে ইতিহাসে জিইয়ে রাখার কাজটি সত্যি প্রশংসনীয়। এ ক্ষেত্রে সমাজকর্মী কাজল ভাই নিজস্ব ঘর দিয়ে সহযোগিতা করায় আমরা এলাকাবাসী হিসেবে উভয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।



