• ঢাকা
  • রবিবার, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

শেখ হাসিনা উন্নয়নের রাজনীতি করেন : ফরিদুন্নাহার লাইলী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:২৪ পিএম
শেখ হাসিনা উন্নয়নের রাজনীতি করেন
নারী সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর-৪ সংরক্ষিত আসনে যারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছে তারা নাকি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ধমক দেয়। তারা ধমক দিয়ে কিছুই করতে পারবে না। কারণ আমরা সবাই এক সাথে মিলে মিশে থাকবো।

রামগতি ও কমলনগরের জন্য সকল দ্বন্ধ ভুলে গিয়ে নদী ভাঙ্গার জন্য এক সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। নদী ভাঙ্গা সমস্যা আমাদের সমাধান করতেই হবে। এমনটি বলেছেন নারী সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী ।

রোববার (১০০ মার্চ) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি আলেকজান্ডার সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সংবর্ধণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফরিদুন্নাহার লাইলী।

লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

এর পূর্বে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ ও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ, আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মৎস্য লীগ, ও মহিলা লীগসহ সকল নেতা কর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ফরিদুন্নাহার লাইলীকে।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে ফরিদুন্নাহার লাইলী আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‍তুমি যে এলাকা থেকে নমিনেশন নিয়েছো সেখানকার মানুষদের নিয়ে কাজ কর। তাদের সমস্যা সমাধান কর। আমি নদী ভাঙ্গা সহ এলাকার যাবতীয় উন্নয়নে আপনাদের নিয়ে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, এই রামগতি উপজেলার শুধু নয় কমলনগরসহ উন্নয়নের কাজ করবো। এখানকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট ও নদী ভাঙ্গার প্রধান সমস্যাসহ আমি তা দেখবো।

ফরিদুন্নাহার লাইলী আরও বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননা; তিনি উন্নয়নের রাজনীতি করেন। বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে লিপ্ত হয়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশর সকল উন্নয়ন আওয়ামী লীগের হাত ধরে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তিঁনি দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছেন, স্বপ্ন দেখছেন; তাঁর সুযোগ্য কণ্যা এখন উন্নয়ন বাস্তবায়ন করছেন

রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কাশেম নিজামের সভাপতিত্বে এবং রামগতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, রামগতি পৌরসভার মেয়র এম. মেজবাহ উদ্দিন।

অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ কৃষি ও সমবায় বিষক সম্পাদক আবদুল্যাহ আল-মামুন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য আবদুজ জাহের সাজু, লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিক লীগ আহবায়ক ইউছুফ পাটোয়ারী, লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিক লীগ যুগ্ম আহবায়ক বেলাল হোসেন ক্বারী, লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবদুল মতলব, লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষক লীগ সদস্য সচিব মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।

রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ছাইফুল আলম বিপ্লব, ৩ নং চর পোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন হাওলাদার, ৬ নং চর আলগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আলী মনু, বৃহত্তর রামগতি উপজেলা ছাত্রলীগ যুগ্ম-সাদারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন, বৃহত্তর রামগতি উপজেলা ছাত্র লীগ সাবেক সদস্য মো. ইউসুফ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রামগতি উপজেলা শাখা কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক লিটন দেবনাথ, রামগতি পৌর আওয়ামী লীগ সম্মানিত সদস্য রিয়াজ খন্দকার, চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তছলিম, চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মঞ্জ প্রমুখ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় পদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেত্রী ফরিদুন্নাহার লাইলী। লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর পূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এ আসনের জন্য আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান। কিন্ত জোটের কারণে আসন বন্টনে আসনটি আওয়ামীলীগের শরীকদল জাসদকে দেওয়ার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ফরিদুন্নাহার লাইলী। পরে এ আসনেই তাকে আবার নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন আওয়ামীলীগ।

সংরক্ষিত আসনের এমপি থাকাকালে তিনি রামগতি ও কমলনগর মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ওই সময়ে তার সহায়তায় এলাকার অনেক মানুষ সরকারি বেসরকারি চাকুরী পায়। তাতে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি তরুণ—যুবকদের নিকট জনপ্রিয় নেত্রীয় পরিণত হন। দলের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের আস্থা অর্জন করে চলছেন।

ফরিদুন্নাহার লাইলী বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় তার। এসএসসি পাশ করার পর ভর্তি হন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে। এ কলেজের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ও সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯—এর গণআন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নির্দেশে এবং পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নহার হলের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার মুহুর্ত থেকে তাঁর মুক্তি লাভ করা পর্যন্ত প্রতিদিনই তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে সাবজেলের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বহুবার কারাগারে যেতে হয়েছে।

দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকায় তিনি বেশ প্রশংসনীয়। কর্মীদের যে কোনো সমস্যায় তাকেই সবার আগে পাওয়া যায়। দলের যে কোনো কর্মসূচিতে তিনিই সবাইকে সংগঠিত করেন। এলাকার কোনো সমস্যায় নেতা—কর্মীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে লক্ষ্মীপুর—৪ আসনের মানুষকে আগলে রেখেছেন। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নসহ এলাকাবাসীর সুখে দুঃখে পাশে থেকে আসছেন। বিশেষ করে মসজিদ—মাদ্রাসা—মন্দির—গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

ফরিদুন্নাহার লাইলী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পূর্বে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বে ছিলেন।

ফরিদুন্নাহার লাইলী ১২ ডিসেম্বর ১৯৫৪ সালে নোয়াখালী জেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম সাইদুর রহমান এবং মাতা মরহুম মাহামুদা বেগমের তৃতীয় সন্তান। তার স্বামী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ মরহুম শাহ আকবর। তার একমাত্র ছেলে এস এম আকবর জাফরী ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং তার সহধর্মিণী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেজর হিসেবে কর্মরত। 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image