• ঢাকা
  • বুধবার, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ২১ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

পথশিশু/পথকলি/টোকাই পাবে কি কভু সুন্দর জীবনের হাতছানি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৫৮ এএম
পথশিশু/পথকলি/টোকাই পাবে কি কভু সুন্দর জীবনের হাতছানি
পথশিশু

আমজাদ হোসাইন 

পথশিশু হল সেইসব শিশু যারা দারিদ্র্য, গৃহহীনতা বা উভয়ের কারণে শহর, নগর বা গ্রামের রাস্তায় বসবাস করছে।

তাদের মুখে উচ্চারিত অতিপরিচিত কথা কিছু টাকা দেন না ভাই, সারাদিন থেকে কিছুই খাইনি। রাস্তায় হাঁটতে গেলে দেখা যায় শিশুরা এরকম দু চার টাকার জন্য প্রতিনিয়ত পিছু লেগে থাকে।

যদিও তাদের পথশিশু বা পথকলি বলি সেটা কি বলার জন্যই বলা তা আজও জানি না।

আশির দশকে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ টোকাইয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘পথকলি’ রাখার চেষ্টা করেছিলেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে গঠন করেছিলেন ‘পথকলি ট্রাস্ট’। কিন্তু পথশিশুদের সমাজ-বাস্তবতার বদল ঘটেনি বলেই ‘পথকলি’ নামের মেকি আদর-ভালোবাসা সমাজ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশের খ্যাতনামা চিত্রকর, কার্টুনিস্ট রফিকুন নবীর টোকাই আজও দাঁড়িয়ে আছে। টোকাইয়ের পোড়া কপালের কোনো পরিবর্তন হয়নি। টোকাই এদেশের আপামর জনসাধারণের মাঝে ঠাঁই করে নিয়েছে। ‘টোকাই’ শব্দটি এখন বাংলা অভিধানেও ঠাঁই পেয়েছে।

এরকম বহু শিশু রাস্তাঘাটে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াচ্ছে।  আবার তাদের মাঝে একাংশ ফুল বা বেলুন বিক্রি করছে।

আবার প্লাস্টিক  কুড়োচ্ছে, এই দৃশ্যগুলো বাস্তবে চোখে পড়ে দিনে একাধিকবার। মনে কষ্ট হয়!
 সেই সময় নিজের অবচেতন মনে প্রশ্ন জাগে পথ শিশু বা টোকাই পরিচয়ের জন্যই কি এদের জন্ম হয়েছে ?

এদের ও তো রয়েছে মৌলিক অধিকার গুলো ভোগ করার অধিকার। দিনশেষে তাদের মাথা গুঁজবার স্হান নেই, রাস্তার ধারে কিংবা রেলস্টেশন তাদের ঘুমানোর জায়গা।

আগে টোকাই বা পথশিশু এই শ্রেনীর মূল কাজই ছিলো কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসপত্র বিক্রি করে দলবেঁধে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। কিন্তু এখন একদল দুষ্ট চক্রের কবলে পড়ে তারা নেশার জগতে হাবুডুবু খায় লোকচক্ষুর আড়ালে নয়, বরং যেখানে সেখানে। 

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ ও দেশের সুন্দর আগামী তাদের মাঝেই বিরাজমান। কেন একটা শিশুকে পথশিশু বলবো? সে রাস্তায় থাকে এজন্য? কেন একটা শিশু রাস্তায় থাকবে? জানি এর কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর নেই। নেই কোন দৃশ্যমান যথাযথ পদক্ষেপ, যদিও বিভিন্ন সংস্থা তাদের নিয়ে কাজ করে চলছে তবুও আমাদের দেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

আজকের এই নতুন প্রজন্মদের কাছে কবিরা রেখে গেছেন তাদেরলেখা স্বরণ কালের শ্রেষ্ট কবিতা সমাহর আর অনেক গান কিন্তু বর্তমানে সমাজে বা রাষ্ট্রের দ্বাযিত্বশীল ব্যক্তিরা কতটুকু দ্বায়ীত্ববান শিশুদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে।

পথশিশু /পথকলি /টোকাই যেই নামেই তাদের ভূষিত করি না কেন পাবে কি কভু তারা সুন্দর জীবনের হাতছানি?  এই প্রশ্নের কোন উত্তর মেলে না অবচেতন মনে। তবুও আশাবাদী  সকলের জোড়ালো চেষ্টায় তারাও পাবে মৌলিক অধিকার তারাও হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image