• ঢাকা
  • সোমবার, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১৬ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির পোনালাপ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৪১ পিএম
ন্যাটোর রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলা উচিত বলে মন্তব্

নিউজ ডেস্ক:  ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রমণ; চলছে ধ্বংসযজ্ঞ। মৃত্যু হয়েছে হাজারো মানুষের। শনিবার প্রথমবারের মতো সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারের কথা জানা গেছে।

এ যুদ্ধ ঘিরে বিভিন্ন পরাশক্তি বিভক্ত হয়ে উভয়পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে কিয়েভকে সমর্থন করছে; জানাচ্ছে রুশ বাহিনীর কর্মকাণ্ডের নিন্দা। তবে একমাত্র সুপারপাওয়ার চীনই নিন্দা না জানিয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।  জো বাইডেন এতে রুশ হামলায় ইন্ধন না দিতে বেইজিংকে সতর্ক করেন ।

জাতিসংঘেও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বৈঠক হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমারা পক্ষে ভোট দিলেও চীন, ভারত, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। রুশ হামলায় বেশিরভাগই দেশ নিন্দা জানালেও তাতে সায় দেয়নি চীন। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, বেইজিং সম্ভবত মস্কোকে আর্থিক ও সামরিক সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে রাশিয়া ও চীন- উভয়েই এমন কোনো কিছুর কথা অস্বীকার করেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে শুক্রবার দুই দেশের শীর্ষ নেতার ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানায়, দুই নেতা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ফোনে কথা বলেছেন। বাইডেন জিনপিংকে বলেছেন, ইউক্রেনের শহরগুলো ও বেসামরিকদের বিরুদ্ধে বর্বর হামলা চালানো রাশিয়াকে যদি চীন যদি উপাদানগত সমর্থন জোগায়, তাহলে এর ভয়াবহ প্রভাব ও পরিণতি হবে।'

এ সময় সংঘাতের পেছনের কারণগুলো সমাধানে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলা উচিত বলে মন্তব্য করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। জিনপিং বাইডেনকে বলেছেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক সংঘাতের পর্যায়ে যাওয়া উচিত না। সংঘাত এবং সংঘর্ষ কোনো দেশেরই স্বার্থের পক্ষে যায় না।'

এদিন ভার্চুয়াল আলোচনায় চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সঠিক পথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পরিচালিত করা এবং দুই পক্ষেরই আন্তর্জাতিকভাবে যে দায়িত্ব পালন করার আছে- তা কাঁধে তুলে নিয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা উচিত। এ সময় মস্কো-কিয়েভের মধ্যকার চলমান সমঝোতায়ও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যুতেও 'সঠিক দায়িত্ব' পালন করতে বলেন জিনপিং।

চীনের বেশিরভাগই সংবাদমাধ্যম দুই নেতার তাইওয়ান ইস্যুতে করা আলোচনা প্রাধান্য দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হলেও তাতে রাশিয়াকে চীনের সহায়তার বিষয়ে বাইডেনের হুমকি উল্লেখ করা হয়নি। এর পরিবর্তে উত্তেজনা হ্রাসে দুই দেশের প্রয়োজনীয়তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধের অবসানের বদলে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তা প্রাধান্য পেয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া দুই নেতার আলোচনাকে প্রাণবন্ত বলে উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জবরদস্তি আমলে নেবে না চীন। এমনকি ইউক্রেন ইস্যুকে ব্যবহার করে বেইজিংয়ের বৈধ স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগও দেওয়া হবে না যুক্তরাষ্ট্রকে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আর্ন্তজাতিক বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image