• ঢাকা
  • রবিবার, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এলে আমরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৬ পিএম
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এলে আমরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করি
বঙ্গবন্ধু

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

‘মুগ্ধ মুদিত দু নয়ানে’ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এলে আমরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করি। বঙ্গবন্ধু জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই এটি নির্ধারিত হয়ে যায়– তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ নামে একটি দেশ অর্জন করবেন। বঙ্গবন্ধুর শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন যেভাবে তিনি কাটিয়েছেন এবং যেভাবে তিনি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে গেছেন, সে সময়ই মনে হয়েছিল এই মানুষটি মহান কিছু অর্জন করবেন।

বঙ্গবন্ধু তখন গোপালগঞ্জের মিশনারি স্কুলে লেখাপড়া করছিলেন, সে সময়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক তাঁর স্কুলে আসেন। সঙ্গে ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তারা যখন স্কুল পরিদর্শন করে চলে যাচ্ছিলেন তখন তাদের দিকে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী শেখ মুজিবুর রহমান এগিয়ে গিয়ে বললেন, আমাদের স্কুলে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। ঠিক করলে আমাদের সুবিধে হয় পড়াশোনার। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ছাত্র থাকাকালে বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে যুক্ত হন এবং এ জন্য পাকিস্তানের কারাগারেও তাঁকে যেতে হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রথম কারাগারের অভিজ্ঞতা অবশ্য ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয়েছিল। ওই সময় একটি ঘটনায় বঙ্গবন্ধু চেষ্টা করছিলেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার, অথচ তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাহোক, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার সংগ্রাম তিনি শুরু করলেন বাঙালির মাতৃভাষা নিশ্চিতের আন্দোলন দিয়ে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক মাস পরই তিনি এ কারণে কারাগারে যান। পাকিস্তানিরা যেহেতু অন্য ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, তার বিরুদ্ধে যখন বঙ্গবন্ধু দাঁড়ান, তার মানে তিনি বাঙালির বন্ধু এবং পাকিস্তানের শত্রু। 

বঙ্গবন্ধু সেদিন ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে আসেন। সেদিন অনেক সাংবাদিক তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন চিন্তাক্লিষ্ট। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে পরিবেশ হালকা করার জন্য তিনি বলেন, জাহান্নামে বসিয়া আমি হাসি পুষ্পের হাসি। তখন সবার মধ্যে হাসি ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় এক বিদেশি তাঁকে বলেছিলেন, আজ তো আপনার জন্মদিন। বঙ্গবন্ধু বললেন, এ দুখিনী বাংলায় আমার জন্মদিন কী আর মৃত্যুদিনই বা কী। শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে, সে জন্য শিশুদের তিনি উজ্জীবিত করতেন।  

বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করেছিলেন ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু আমাদের সম্পদ নয়, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে একে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এটি এখন বিশ্বসম্পদ। সেই ভাষণটিও এ দেশে একসময় প্রচার হতো না। আমাদের জন্য তার চেয়েও বড় বেদনা ও শোকের বিষয়, যে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন সার্বভৌম দেশ উপহার দিয়েছিলেন, তিনিই কিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শাহাদাত বরণ করেন। যাহোক, ১৯৯৬ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন, তখন প্রথম বাংলাদেশ টেলিভিশন ঐতিহাসিক সেই ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করেছিল। সেই ভাষণ ছিল মানবমুক্তির মহাকাব্য। রমনার রেসকোর্স ময়দানের সেই ভাষণ বঙ্গবন্ধু শুরু করেন ভাইয়েরা আমার বলে। শেষে বলেন– এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন এবং সারাটা জীবন মানুষের জন্য উৎসর্গ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে যখন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন, দেশে ফিরে এসে তিনি বৃদ্ধ মা-বাবা কিংবা পরিবারের কাছে যাননি। তিনি সেদিন সেই রেসকোর্স ময়দানে জনগণের কাছে ফিরে আসেন। 

আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিউজউইক সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে পয়েট অব পলিটিকস বা রাজনীতির কবি হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা। আর ২৬ মার্চ যখন বঙ্গবন্ধু বললেন, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন, সেটা ছিল আইনগত আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালি জাতি সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তরিত হলো। মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং ৯ মাসের যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করে। বঙ্গবন্ধু সশরীরে আমাদের সঙ্গে না থাকলেও তাঁর ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ছিল। বিজয় অর্জন করার পর বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসেন। এরপর সাড়ে তিন বছর বেঁচেছিলেন। এ সময়ের প্রতিটা দিন তিনি কর্মব্যস্ত যাপন করেন এবং জন্মদিন আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। 

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৯৯৭ সালে সরকারিভাবে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এ দিবসটিতে দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে। কারণ তারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে। তিনিও আজীবন মানুষকে ভালোবেসে গেছেন। বঙ্গবন্ধু শিশুসুলভ মনের অধিকারী ছিলেন। শিশুসুলভ সারল্য নিয়ে তিনি সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। তিনি শিশুদের উপলব্ধি করতে পারতেন। 

ভারতেও জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনকে শিশু দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। নেহরু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এভাবে বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে শিশু দিবস উদযাপন করা হয়। আমরা ভাগ্যবান যে, বঙ্গবন্ধু– যিনি জাতির পিতা এবং আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি– তাঁর জন্মদিনটি শিশু দিবস হিসেবে উদযাপন করছি। 

শুরুতে বলেছিলাম, ‘এসো মুগ্ধ মুদিত দু নয়ানে’। বাস্তব অর্থেই জন্মদিনে আমরা বঙ্গবন্ধুকে দেখি। বস্তুত তিনি আমাদের সামনে আছেন এবং থাকবেন। 

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: প্রাক্তন উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image