• ঢাকা
  • রবিবার, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২১ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

ব্যাংক ঋণের সুদ বাড়ছে প্রতি মাসেই 


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৩৯ এএম
ব্যাংক ঋণের সুদ বাড়ছে প্রতি মাসেই 
বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক : প্রতি মাসেই ব্যাংক ঋণের সুদহার বেড়ে যাচ্ছে। এই হার বেড়ে সর্বশেষ ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এই সুদহার আজ থেকে প্রযোজ্য হবে। আর এপ্রিল মাসের জন্য তা বহাল থাকবে। গত জুলাই মাসের পর এটাই হচ্ছে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ সুদহার। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের সুদহার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সুদহার বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে যাচ্ছেন বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা। বিনিয়োগাকারীরা তাদের ব্যবসার ব্যয় ঠিক রাখতে পারছেন না। এতে বেড়ে যাচ্ছে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়। আর পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের দামও বাড়তে থাকে। ফলে বেকায়দায় পড়ে যাচ্ছেন ভোক্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সুদহার নির্ধারণে একটি নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এর ফলে ঋণের সুদ এখন প্রতি মাসেই বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ছিল ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে হয় ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। এর আগে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারিত ছিল ৯ শতাংশে। গত জুলাই মাসে সুদের হার বেঁধে দেওয়ার ঐ পদ্ধতি থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বর্তমানে সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল বা স্মার্ট পদ্ধতিতে ঋণের সুদের ভিত্তি হার নির্ধারিত হয়। এই ভিত্তি হারের সঙ্গে যুক্ত হয় বাড়তি ৩  দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ। এ দুইয়ে মিলে ঋণের চূড়ান্ত সুদহার নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলো। মার্চ মাস শেষে স্মার্ট হার ছিল ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশে। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ সুদ যুক্ত করলে ঋণের সুদ দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বহুল আলোচিত-সমালোচিত ‘৯-৬ সুদহার’ উঠিয়ে নেওয়ার পর ঋণের সুদহার বেড়ে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ব্যাংকের ঋণের ওপর সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ শতাংশ, আর আমানতের ওপর সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৬ শতাংশ। ঋণের সুদহার বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এখন আমানতের ওপর সুদের হারও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করার ফলে এখন প্রতি মাসেই ঋণের সুদ বাড়ছে। নতুন করে ব্যাংকঋণ নিতে গেলেই গুনতে হচ্ছে বেশি সুদ। এর ফলে ব্যবসার খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য মুদ্রানীতি কমিটি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নীতি সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব স্মার্টের ওপর ইতিমধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঋণের সুদহার মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ঋণের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা পালন করতে হবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০ সালের এপ্রিলে ব্যাংকঋণের সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশে নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তবে অর্থনীতিতে সংকট শুরু হলে গত বছরের জুন থেকে ব্যাংকঋণের সুদহার নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি স্মার্ট চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারের ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদহারের ভিত্তিতে ব্যাংকের এ সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে। প্রতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্মার্ট সুদহার প্রকাশ করে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সঞ্চয় কমিয়ে দিয়েছেন মানুষ। আবার করোনার কারণে দুই বছর ঋণ পরিশোধে ছাড় পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায়ও কমে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঋণ দেওয়ার মতো তহবিল কমে এসেছে। আবার শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক তারল্যসংকটে পড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদামতো টাকা জমা রাখতে পারছে না। কোনো কোনো ব্যাংক এখন আমানত সংগ্রহে ১০ শতাংশের বেশি সুদ দিচ্ছে। তবে বেশি তারল্যসংকটে থাকা কোনো কোনো ব্যাংক ১২ শতাংশ সুদেও আমানত নিচ্ছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image