• ঢাকা
  • শনিবার, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২২ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় নদীকে উপেক্ষা করা হয়েছে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৬ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৩১ পিএম
একাত্তরে নদীর ভূমিকা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ছিল
একাত্তরে নদীর ভূমিকা

নিউজ ডেস্ক:  একাত্তরে নদী পালন করেছে মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকা। ইতিহাসের পাতায় চোখ ফেরালেই দেখা যায় খোদ নদীতেই সংগঠিত হয়েছিল অসংখ্য যুদ্ধ। এই নদীকে কেন্দ্র করেই নেওয়া হয়েছিল সমর পরিকল্পনা। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীবিধৌত বাংলায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সড়ক যোগাযোগ অপেক্ষা নদীপথে যোগাযোগ বেশি ছিল। সঙ্গত কারণেই নদীকে বাদ দিয়ে সমর পরিকল্পনা করার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানকে উপেক্ষা করা হয়েছে।’ গত মঙ্গলবার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট আয়োজিত ৫২৮তম সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচারে এমন মন্তব্য করেন লেখক ও গবেষক ফয়সাল আহমেদ।

‘এবং বই’ ও ‘রিভার বাংলা’ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ভারতীয় মিত্র বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা নদীর উপর ভিত্তি করেই চারটি সেক্টরে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। একইভাবে পাকিস্তানি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজির যুদ্ধ পরিকল্পনার সর্বাগ্রে ছিল নদী। এ থেকেই বোঝা যায় একাত্তরে নদীর ভূমিকা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে ফয়সাল আহমেদ মুক্তিযুদ্ধকালে দায়িত্বরত এক বাঙালি অফিসারের বক্তব্য উদ্বৃত করে বলেন, ‘‘আমরা এখন বর্ষার অপেক্ষায় আছি, পাকিস্তানিরা পানিকে এত ভয় পায়। আমরা হচ্ছি জলের রাজা। তারা তখন ভারী কামান আর ট্যাংক নিয়ে চলতে পারবে না। প্রকৃতিই হবে আমাদের দ্বিতীয় বাহিনী।’’ ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘এই প্রকৃতিই আমাদের নদ-নদী। পশ্চিম পাকিস্তানের সেনারা ছিল শুস্ক অঞ্চলের, তাদের অনেকেই জীবনে বড় নদী দেখেনি, তাই ভরা বর্ষায় তাদের মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি যুদ্ধ করতে হয়েছে প্রকৃতির সঙ্গেও।

নদীপথে মুক্তিযুদ্ধের আরও উদাহরণ উপস্থাপন করে নদী বিষয়ক গবেষক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘মধ্য আগস্টে নৌকমান্ডোদের মরণপণ আক্রমণ অপারেশন জ্যাকপটের মধ্য দিয়ে মুক্তিযদ্ধের গতিপথ আমূল বদলে গিয়েছিল। অন্যথায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারত। নয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের পেছনে নদীরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রিডিং ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জুলফিকার ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে নদী। মুক্তিযুদ্ধেও নদীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তবে নদীর এই ভূমিকা গভীরভাবে বোঝার জন্যে মুক্তিযুদ্ধে নদীকে কেন্দ্র করে যে সমর পরিকল্পনা, নদী ব্যবহারের কৌশল, কৌশলসমূহের বাস্তবায়নে সাফল্য-ব্যর্থতা বিশ্লেষণ জরুরি। মুক্তিযুদ্ধে নদীর ভূমিকা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে নদীকে পুনরাবিষ্কার করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ বিষয়বস্তুর এই অভিনবত্বের জন্য তিনি বক্তাকে সাধুবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যপরবর্তী পর্যালোচনায় অংশ নেন গবেষক ও সাংবাদিক ড. কাজল রশীদ শাহীন, অধ্যাপক এম এ আজিজ মিয়া, রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের অ্যাসোসিয়েট, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা।

ঢাকানিউজ২৪.কম / এইচ

আরো পড়ুন

banner image
banner image