• ঢাকা
  • বুধবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২৯ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগাই 


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০১:১৮ পিএম
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়
গাছ লাগাই 

মোঃ সাইদুর রহমান 

প্রকৃতির ভয়ঙ্কর আচরণে অপ্রত্যাশিত ভাবে প্রকৃতির বৈরীতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। মরুর দেশ দুবাইয়ে বন্যা, যুগ যুগান্তরের  ইতিহাসকে প্লাবিত করে বিশ্ববাসীকে পরিবেশ বিপর্যয়ের বার্তা দিয়েছে।বাংলাদেশের তাপমাত্রা পারদের রেকর্ড  ৪৪ ডিগ্রিতে ছুঁয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, চারদিন সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি সহ ভারী বর্ষণ হতে পারে। বাংলাদেশের তাপমাত্রা বাড়ছে অসহনীয় মাত্রায়! গবেষকেরা বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে উঞ্চতম বছর হবে ২০২৪ সাল। 

বিশ্বে এখন যুদ্ধের ডামাডোল বাজতেছে। পরিবেশে বাস করে পৃথিবীর প্রাণীকুল। এই বিশ্ব পরিবেশ যদি আমাদের অবহেলার কারনে বাসের অযোগ্য হয়ে উঠে তাহলে ; যুদ্ধ করে কি লাভ হবে ? প্রতিটি প্রাণীকুলকে বেঁচে থাকার জন্য বাসযোগ্য পরিবেশের দাবী কোন সৌখিন দাবী নয়।

গাছ ও পরিবেশর মধ্যে একটা নিবীড় সম্পর্ক অন্তর্নিহিত। আমরা বলি গাছ আমাদের পরম বন্ধু কিন্তু কতটুকু যত্নশীল বন্ধুর প্রতি ?  আমরা কোন কারন ছাড়াই অথবা সামান্য কারন দেখিয়ে বনকে বন উজার করে দিয়েও মনে অতৃপ্তির  বাসনা থেকেই যায়। একটা দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। "  গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান " এই স্লোগানটি এখন আর পত্র-পত্রিকা অথবা মিডিয়া গুলিতে আগের মতো জোড়ালো ভাবে প্রচারিত হচ্ছে না। গাছপালা শুধু কার্বন ড্রাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে উপকারের পরিসমাপ্তি ঘটায় তা না । প্রাণীকুলের পুষ্টির জোগানদাতা । ফল দেয়,  ফুল দেয়, ছায়া দেয়, সুশীতল বাতাস দেয়, মরণ ব্যাধি ঔষধের জোগান দেয়, পাহাড় ধস থেকে রক্ষা করে ।  আরও বিভিন্ন ভাবে উপকারে আসে। পাখিকুলের বেঁচে থাকার নির্ভর যোগ্য মাধ্যম হচ্ছে গাছপালা।

বিশ্বায়নের ফলে প্রযুক্তির অযৌক্তিক ব্যবহারে পরিবেশ আজ সংকটাপন্ন।  বিশ্বের উন্নত দেশ গুলির শিল্পায়নের যাঁতা কলে পিষ্ট হয়ে  দুষিত হচ্ছে পরিবেশ । শিল্পে অধিক পরিমাণে জীবাশ্ম জালানি ব্যবহারের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশকে বললে,  এদেশের আবহাওয়া যাত্রাদলের ভিলেনের মতো হাসবে ।
শিল্পোন্নত দেশ গুলির বেসামাল শিল্পনীতির জন্য আমাদের মতো স্বল্প উন্নত দেশে আজ বাসের অযোগ্যের ধারপ্রান্তে । শিল্পের বর্জ  পরিশোধন ছাড়াই ছেড়ে দিচ্ছে পরিবেশে।  আর বায়ুমণ্ডলে  সৃষ্টি হচ্ছে গ্রীনহাউজ ইফেক্ট । যারফলে ; দেশে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, পাহাড় ধস,  ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দিনে দিনে বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তারসাথে আমাদের প্রিয় মানচিত্রের অবস্হানও পরিবর্তন  হতে শুরু করেছে। গ্রীনহাউজ ইফেক্টের জন্য একমাত্র কার্বন নিঃসরণকে দায়ী করলে ভুল হবে। গ্রীনহাউজ ইফেক্টের জন্য কার্বন ৫০ ভাগ দায়ী ।বাকীটার জন্য অন্যন্য উপাদান দায়ী।  বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা বলেছেন,  প্রতিবছরেই কার্বন নিঃসরণের রেকর্ড ভাঙ্গতেছে। পৃথিবীতে শীর্ষে থাকা কার্বন নি:সরণকারী দেশ গুলি হচ্ছে চীন,  যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত । বিশ্বে সবচেয়ে বেশী কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীন ( ২৮%) ।   বিজ্ঞানীরা বলেন,   পৃথিবীটাকে  একটা টাইম বোমার সাথে তুলনা করা যেতে পারে । যে কোন সময় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

জার্মান ওয়াচের তথ্য মতে, গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাবে বেড়ে যাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা। বাংলাদেশ এর অন্যতম ভুক্তভোগী। সাম্প্রতিক সময়ের দাবদাহ যেন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ বছরের এপ্রিল মাসে তীব্র তাপদাহে বাংলাদেশের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়। সে সময় চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাময়িক বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও এটা সাময়িক। বাংলাদেশের তীব্র দাবদাহের কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বনায়নের পরিমাণ কমে যাওয়া, কলকারখানা বৃদ্ধি, গ্রিনহাউস গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ইত্যাদি। তবে গবেষকরা দাবদাহের পেছনে গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে প্রধান কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপ বৃদ্ধির মাত্রা ১ দশমিক ৭৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এতে মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ৫ মিটারের অধিক হলে সমগ্র মালদ্বীপ এবং নিউইয়র্ক, লন্ডন, সিউল, টোকিও শহরের পাশাপাশি উপকূলবর্তী অনেক অঞ্চল সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে।এর প্রভাব বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশের ওপরেও পড়বে। 

জার্মান ওয়াচের গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অবস্থান সপ্তমে রয়েছে। এই শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা প্রায় ১ মিটার বাড়বে। এতে বাংলাদেশের মোট ভূমির ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ তলিয়ে যাবে। ২০৫০ সালের মধ্যে ১৮ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে এবং প্রতি ৭ জনে ১ জন জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। বাস্তুচ্যুতির শিকার ১ কোটি ১৪ লাখের বেশি মানুষ।এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা। তীব্র তাপদাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, বন্যা, খরা, বজ্রপাত, নদীভাঙন, ভূমিকম্প ইত্যাদি আগের তুলনায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যাঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে প্রথম অবস্থানে। 

৫৬ হাজার বর্গ মাইলের দেশটাকে নিয়ে আগে ভাবতে চাই। একটা দেশের আয়তনের কমপক্ষে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্চনীয় । কিন্তু আমাদের বনভূমি আছে ১৭%। এই ১৭% এর বাস্তব চিত্র দেখলে সবাই বিস্মিত হবেন। এর মধ্যে
চট্রগ্রামে বনভূমি আছে ৪৩% ,  খুলনায় আছে ৩৮% ঢাকায়  আছে ৭% সিলেটে ৬% বরিশালে ৩% রাজশাহীতে ২% । চট্রগ্রাম ও খুলনা ছাড়া সারা দেশে বনভূমির পরিমাণ  খুবই নগণ্য  ।  এটা পরিস্কার অঞ্চল ভিত্তিক বনায়ন অতিজরুরী  । যে অঞ্চলে বনভূমি কম সে অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করতে হবে।
পরিবেশের ভারসাম্য  এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে এ দেশের জলবায়ুকে রক্ষায় অনেক গুলি করণীয় কাজের মধ্যে বৃক্ষরোপণ হলো প্রধান ।
 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image