• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০২ জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে অনন্য ভুমিকা রেখেছে অগ্রণী ব্যাংক


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৪ এএম
নান্দনিক উদ্ধাবকও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম
মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম

আশ্রাফুল আলম নোবেল পাটোয়ারী:  স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে অন্যন্য ভুমিকা রেখেছে দেশের অন্যতম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। পদ্মা সেতু তৈরিতে এককভাবে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছে এই প্রতিষ্ঠান । এখন পর্যন্ত ১.৪৯৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করেছে ব্যাংকটি। আরও ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করবে অগ্রণী ব্যাংক। নিজস্ব রফতানি এবং প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা দিয়েই ব্যাংকটি এই অর্থ সরবরাহ করেছে ।

দৈনিক অর্থনীতির খবর ও অনাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকানিউজ২৪ডটকমকে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম এ কথা জানান ।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের আত্ম মর্যাদার প্রতীক । এই সেতুর জন্য কথা ছিল বিশ্বব্যাংক ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে । কিন্তু কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে তারা ঋণ প্রত্যাহার করে।বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে বাংলাদেশ । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে উদ্যোগ নিলেন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার। অগ্রণী ব্যাংকও উৎসাহের সঙ্গে এই প্রকল্পের পুরো বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের দায়িত্ব নিল।

শামস-উল ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংক পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। সেতুটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করবে।

সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, সাবেক সেতু সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম (বর্তমান মন্ত্রীপরিষদ সচিব ) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে ধন্যবাদ দেন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি। তিনি বলেন, ‘এই চারজন ব্যক্তিত্ব পদ্মা সেতুতে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা জোগান দেয়ার ব্যবস্থাটি আমাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গ্রহণ করেছিলেন। একই সঙ্গে বর্তমান সেতু বিভাগের সচিব, গভর্নর সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের সবাইকে অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে অশেষ ধন্যবাদ।’ ২০১২ সালে পদ্মা সেতুর হিসাব খোলা হয়। সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে ডলার সরবরাহ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত মোট ডলার সরবরাহ করা হয়েছে ১.৪৯৯ বিলিয়ন ডলার। আরও অন্তত এক বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করতে হবে এই প্রকল্পে।

শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘অগ্রণী ব্যাংকের নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর কমার্স ব্যাংক ও হাবিব ব্যাংক দুটি মিলিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের নামকরণ করেন তিনি। আমরা অগ্রণী নামের সার্থকতা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছি পদ্মা সেতুতে এককভাবে ডলার সরবরাহ করে। আমরা যে শুধু মুনাফা করব সেটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সরকারী ব্যাংকের মালিক কিন্তু জনগণ। আমি মনে করি, এই কাজের মাধ্যমে আমরা জনগণকে তাদের প্রাপ্য ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) দিচ্ছি। বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে আমাদের আর্থিক মুনাফার পাশাপাশি সামাজিক মুনাফাও অর্জন করতে হবে। লাভের পাশাপাশি সামাজিক যে দায়বদ্ধতা সেটাও কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে। এই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই কাজটি করেছি।

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি বলেন, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণকাজেও আর্থিক সহায়তা করেছে অগ্রণী ব্যাংক। ১৫টি বিদ্যুতকেন্দ্রে অর্থায়ন করেছে ব্যাংকটি। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকায় অগ্রণী ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখছে। নারী উদ্যোক্তা ও তাদের ক্ষমতায়নে জামানতবিহীন ঋণ দিচ্ছে ব্যাংকটি। কৃষিঋণ সহজলভ্য করার কারণেই আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে দেশ।

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও বলেন, দেশ এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রেমিটেন্সের বড় একটি ভূমিকা রয়েছে। কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার জন্য ২০১০ সাল থেকে জামানতবিহীন একক ডিজিট সুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। বিদেশে গিয়ে কর্মীরা যাতে সহজে রেমিটেন্স পাঠাতে পারেন এ জন্য বিভিন্ন দেশে আমরা রেমিটেন্স হাউসের ব্যবস্থা করেছি। করোনাকালে বিদেশফেরতদের জন্য জামানতবিহীন নতুন একটি ঋণ চালু করেছি ‘প্রবাসীদের ঘরে ফেরা ঋণ’। যার সুদের হার মাত্র ৭ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংক এ দেশের গণমানুষের ব্যাংক হিসেবে যেন যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে, আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখতের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদসহ ১১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলছে অগ্রণী ব্যাংক।

করোনার সময় প্রবাস আয়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ২ শতাংশ প্রণোদনার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ অতিরিক্ত প্রণোদনা দেয় অগ্রণী ব্যাংক। যার ফলে ব্যাংকটির রেমিটেন্স প্রায় ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। রেমিটেন্স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমনতের পরিমাণও এক লাখ কোটি টাকা বেড়ে সোনালী ও ইসলামী ব্যাংকের পর অগ্রণী ব্যাংক এক ট্রিলিয়ন ক্লাবের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সিঙ্গাপুরে অগ্রণী রেমিটেন্স হাউসের রেমিটেন্স এ্যাপ প্রচলন করা হয়। এটাও রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে বলে জানান ব্যাংকটির এমডি।

পরে এই এ্যাপটি সিঙ্গাপুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিম্পেক পদক পায়। ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ ব্যাংক হতে চাই। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি। এরপর আমাদের লক্ষ্য আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এক নম্বর ব্যাংক হওয়া। আমাদের সফটওয়্যার আপগ্রেডেশন হচ্ছে। 

এছাড়া দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু কর্নারের নান্দনিক উদ্ধাবকও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম । 

ঢাকানিউজ২৪.কম /

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image