• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ২৫ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার নীল নকশা ছিল  


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২০ আগষ্ট, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২৬ এএম
আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার নীল নকশা ছিল  
২১ আগস্ট

সাইদুর রহমান

পঁচাত্তরে পনের আগস্টে স্বাধীনতার স্থপতি, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে সহ পরিবারে হত্যার সাথে সাথে বিশ্ব জিডিপি তে ধস নেমে ছিল। ৭৫ এর ১৫ আগস্টে রক্তপিপাসু ঘাতকরা রক্তহলি খেলে তাদের অতৃপ্ত আত্বার শান্তির ঢেঁকুর তুলতে পারেনি। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র, ১৫ আগস্টের খুনীরা আর ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাকারী একই সূত্রে গাঁথা তারা। তারা সময় এবং সুযোগের জন্য অভিযোজিত হয়ে কোন দল বা গোষ্ঠীর সাথে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। তাদের লক্ষ অর্জিত স্বাধীনতাকে অরক্ষিত করা। আওয়ামী লীগ কিংবা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে তারা ধ্বংস করতে চায়। কারন তারা জানতো স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি অথবা আওয়ামী লীগ দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায় থাকলে যুদ্ধাপরাধী ১৫ আগস্টের মতো নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার একদিন না, একদিন করবেই । তাই তারা আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালায়। 

বহু বছর ঘাতকরা শীত নিদ্রায় ছিল । ২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট জঙ্গিবাদী এবং ইসলাম ধর্মের লেবাসধারী মানুষগুলি ৬৪ টি জেলায় বোমা ফাটানোতে দেশের মানুষ শুধু বিস্মিত হয়নি ; ঘৃণার পাহাড় নিক্ষেপ করেছে জঙ্গিদের প্রতি । পৃ্থিবীর সবচেয়ে শান্তির ধর্ম ইসলাম।  এই ধর্মের দোহাই দিয়ে যুবকদেরকে ধর্মান্ধ করে ধর্মের বারটা বাজাচ্ছে । সারা দেশে একযোগে একই সাথে বোমা ফাটিয়ে জঙ্গিদের পরিধি ও বিস্তৃতি জানাল দিল । বিশ্ববাসী দেখলো এইসব জঙ্গিদের জঙ্গিপনা।  আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন তখন জঙ্গিবাদ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাস বিরোধী সভা-সমাবেস করতেছিল । শীত নিদ্রায় থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনীরা তাদের পশুত্বকে জাগ্রত করে জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে হাত মিলায় । তারা ১৫ আগস্টের মতো রক্তহলি খেলার জন্য মহা পরিকল্পনার জাল বিস্তার করেছিল। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জাতিকে দিবে আরেক রক্তগঙ্গা উপহার। আর আওয়ামী লীগকে করবে নেতৃত্বশূন্য। লাশের উপর খুনীরা হুংকার দিবে। বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবে সম্প্রীতি ও মানবতাকে। দেশের মানচিত্র কলুষিত হবে তাদের অপবিত্র হস্ত যুগলে।  
২১ আগস্ট, অবশেষে তাদের সেই মহেদ্র ক্ষণের লাল সূর্য উদিত হলো। তাদের পরিকল্পনার জাল সূক্ষ্ম এবং সাবধানতার সহিত বিস্তৃতি করেছিল । তারা তিনটি দল হামলার জন্য গঠন করেছিল । প্রথম দল আক্রমনে ব্যর্থ হলে ২য় দল আক্রমনে যাবে, তারপর ৩য় দল । প্রথম দল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ছাদে অবস্থান করবে। ২য় দলটি গোলাপ শাহ্ মাজারের নিকটে । ৩য় দল থাকবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মঞ্চের কাছাকাছি । ট্রাকের উপর নির্মিত হলো সেই কালজয়ী মঞ্চ। নেতা-কর্মীরা  সভাস্থলকে জনসমুদ্রে পরিণত করেছিল। বাংলার আকাশে গোধুলীর ছায়া পড়বে তার আগ মুহূর্তে, শেখ হাসিনার বক্তৃতায় শেষে বিকট শব্দে সভাস্থল কম্পিত হলো। দেহরক্ষী এবং নেতা-কর্মীরা মানব প্রাচীর তৈরী করে শেখ হাসিনাকে শেষ রক্ষা করলেন। দেহরক্ষী তার বক্ষকে রক্তস্নাত করে এবং অমূল্য জীবনকে উৎসর্গ করে জননেত্রীর জীবন বাঁচালেন । শ্রদ্ধা জানাই তাঁর কর্তব্যবোধকে । ২১ অাগস্ট গ্রেনেড হামলায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের রাজপথ রক্তস্নান করেছিল । ড্রেনে রক্তের স্রোত প্রবাহিত হতে থাকলো। একে একে ১৩টি গ্রেনেড ছুঁড়া হলো। মানুষের দেহের মাংস পিন্ডগুলো বাতাসে ভাসতে থাকলো। ছিন্ন-বিছিন্ন দেহগুলো নিথর হয়ে পড়ে ছিল । ২৪টি তরতাজা প্রাণকে সাদা কাপড়ে মুড়াতে হলো। সাথে সাথে তাদের পরিবারের স্বপ্ন, আশা, আকাঙ্খা সবই রাজপথে সমাধিত হলো।  ৫০০ মতো নারী- পুরুষ আহত হলেন। আই ভি রহমান, আদা চাচাসহ ২৪টি নিস্পাপ প্রাণের প্রদীপ নিভে গেল। আহতরা হাত-পা চোখসহ বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়ে পেয়েছে শুধু শরীরে স্প্রিন্টারের সংযোজন। যাঁরা মরে গেছেন স্প্রিন্টারের যন্ত্রনা থেকে বেঁচে গেছেন,  আর যাঁরা আহত তারা মৃত্যু যন্ত্রনার স্বাদ পাচ্ছেন প্রতিমুহূর্তে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। ধিক্কার দিয়েছিল বিএনপি জোট সরকারকে। 
২১ আগস্ট নেতা-কর্মীরা মানব প্রাচীর তৈরী করে শেখ হাসিনার প্রতি ভালবাসার বিরল এবং উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছিলেন । আল্লাহর রহমত না হলে জাতি হয়তোবা হারাতো জাতির পিতার স্বপ্ন পোষণকারী  শেখ হাসিনাকে আর দল হতো নেতাশূন্য। 
অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধী কিংবা ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের বিচার অধরাই থেকে যেত। দেশ হতোনা উন্নয়নশীল। আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় । ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় আহত নেতাকর্মীরা কেমন আছেন? 

জনসভায় হামলা চালিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনেতিক দলের নেতৃত্বকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা, আধুনিক ইতিহাসে বিরল। ২১ আগস্টের হামলার ১৯ বছর হয়ে গেল। বিএনপি- জামায়াত জোট সরকার গ্রেনেড হামলার পর দু বছর ক্ষমতায় ছিল কিন্তু তারা তদন্তের নামে প্রহসন করে রাজনৈতির সংস্কৃতিতে নোংরামির পরিচয় দিয়েছিল। তারা জজ মিয়া নাটক তৈরী করে  বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে দিয়ে আরেকটা প্রহসনেরর তদন্ত করেন।অবশেষে আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্ব লজ্জিত, বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার বিচার কাজ সম্পূর্ণ করেছে। 

২০০২ সালের দ্রুত বিচার আইনে গ্রেনেড হামলার মামলা স্হানান্তর করা হয় । ২০০৫ সালে ইন্টারপোল এবং এফ,বি,আই তদন্ত করে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্যই দিয়েছে, যা বিচারের জন্য যথেষ্ট।। ২০০৫ সালে প্রয়াত মহামান্য প্রেসিডেন্ট  জিল্লুর রহমান বলেছিলেন বিএনপি সরকার ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার করবে না। ২০০৬ সালে ২১ আগস্ট
 হতাহতদের স্বজনেরা বিচারের কচ্ছপ গতি দেখে বলেন " বিচারের আশা করেন না " (সূত্র : প্রথম আলো)। 

বর্তমান সরকারকে গ্রেনেড হামলার মামলার বিচারিক কাজ শেষ করতে অনেক কাঠকয়লা পোড়াতে হয়েছিল।  দেশীও এবং আন্তজার্তিক চাপকে উপেক্ষা করে, অবশেষে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারের আদালত রায় দেয়,  ১০ অক্টোবর ২০১৮ সালে। মামলায় মোট ৪৯ জন আসামী ছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুরজ্জামান বাবর, সাবেক উপ-প্রতিমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।কিন্তু রায় কার্যকর এখনও বাকীর খাতায়! 
৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী বিচার বিলম্বিত হয়েছিল বলে,  মীরজাফররা ৭৫ এর ১৫ আগস্টে ঘটিয়েছে আবার ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের বিচার রোধ করাতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। আগস্টের এই নির্মম হত্যাকান্ড  ইতিহাসকে হাসিয়েছে কিন্তু কেঁদেছে বাংলার আকাশ- বাতাস, তরুলতা এবং সারা বিশ্বের শত কোটি মানুষ ।

১৫ আগস্টের হত্যার বিচার যদি কালের নোংরা রাজনীতির বেড়াজালে আটকা না পড়তো, তাহলে হয়তোবা ২১ আগস্টে আরেকটা কালো অধ্যায়ের সূচনা হতোনা।  বিচার বিলম্বিত করা মানে হত্যাকারীদের উৎসাহিত করার সামিল।বিলম্বিত বিচারে ঘাতকরা নতুন করে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ খুঁজবে । হামলাকারীরা আরেকটা হামলা করার  সুযোগ করে দেওয়া। 

আগস্ট মাস হয়তোবা নিরবে নিবৃত্তে কাঁদে । আমার দোষ কি ? কেন খুনীরা আমাকে কলঙ্কিত করে? আমাকে ঘিরে কেন রক্তহলি খেলা?  স্প্রিন্টারের অাঘাতে জর্জরিত আহতদের চিকিৎসা ও তাদের পরিবারের ভরণ পোষণের দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা।
অন্যাথায় " ত্যাগীদের অভিশাপে দল অভিশপ্ত হবে। '


লেখক :  সাবেক ছাত্রনেতা ও লেখক ও কলামিস্ট। 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image